ম্যারাডোনা যে কারণে দু হাতে দুটি ঘড়ি পরতেন!

ঈশ্বরের বিচরণ সর্বত্র। তাই বলে ফুটবল মাঠে এসে দৈববলে নিজে’র হাতে গোল দিয়ে দেবেন? ব্যাপারটা কেউ হয়তো কল্পনায়ও আনবেন না।যদি না তার নাম ডিয়েগো ম্যারাডোনা না হয়! চোখ-ধাঁধানো পারফরম্যান্স দিয়ে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ মা’তিয়ে রে’খেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

শেষ পর্যন্ত সে আসরের শি’রোপাটাও উঠেছিল ম্যারাডোনারই হাতে। মাঠের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের পাশাপাশি অক’ল্পনীয় এক বিত’র্কের জ’ন্ম দিয়েও স্ম’রণীয় হয়ে আছেন সর্বকালের অন্য’তম সেরা ফুটবলার। নানা অদ্ভূ’ত স্ব’ভাব এসে ভর করেছিল তার ওপর। তার একটি অদ্ভু’ত শখও ছিল। ম্যারাডোনার একইস’ঙ্গে দু হাতে দুটি ঘড়ি পরতেন। কিন্তু কেন?

ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি সান জা’নিয়েছে, একটি ঘড়িতে থাকতো তার জ’ন্মস্থান আর্জেন্টিনার সময় আর অন্যটিতে তিনি যেখানে অব’স্থান ক’রতেন তার স্থা’নীয় সময়। আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৩৪টি গোল ক’রেছেন ম্যারাডোনা। চারটি বিশ্বকাপ খেলা এ ফুটবলার দেশটি একক নৈপুণ্যে বিশ্বসেরার ট্রফি জিতিয়েছেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তার অবদান শুধু আর্জেন্টিনাতেই নয়, বিশ্ব ফুটবলে রাজার আসনে আসীন করেছে তাকে।

বলা যায়, এই ম্যারাডোনাই দুনিয়াজুড়ে আকাশি-সাদা জার্সির লাখো কোটি ভক্ত সম'র্থক তৈরি করে গেছেন। ম্যারাডোনার জ’ন্ম ১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর বুয়েনস আইরেস প্রদেশের লানুস শহরে, খুবই গরীব পরিবারে। তিনি বেড়ে ওঠেন ভিয়া ফিওরিতোতে।বাবা-মায়ের তিনটি কন্যা সন্তানের পর তিনিই ছিলেন ছে'লে। তার ছোট দুই ভাই রয়েছে হুগো (এল তুর্কো) এবং রাউল (লালো)। তারাও পেশাদার ফুটবলার ছিলেন।

১০ বছর বয়সে যখন এস্ত্রেয়া রোজার হয়ে খেলছিলেন তখন দিয়েগোকে খুঁজে বের করেন একজন স্কাউট। এরপর তিনি দ্য লিটল অনিঅনের (আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের যুব দল) একজন মূল খেলোয়াড়ে প’রিণত হন।আর্জেন্টিনার প্রথম বিভাগের খেলায় বল-বয় ছিলেন ম্যারাডোনা। তখন তার বয়স ১২ বছর। তখন খেলার অর্ধ বিরতির সময় বল নিয়ে জাদুকরি কারুকার্য দেখিয়ে তিনি দর্শকদের সন্তুষ্ট ক’রতেন।

১৯৭৬ সালের ২০ অক্টোবর, নিজে’র ষোলতম জ’ন্ম'দিনের দশ দিন আগে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে অ'ভিষেক হয় ম্যারাডোনার। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। ১৬৭ ম্যাচে গোল করেন ১১৫টি। এরপর ১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে বোকা জুনিয়র্সে পাড়ি জমান। ১৯৮১ মৌসুমের মাঝামাঝি সময় বোকায় যোগ দিয়ে ১৯৮২ সালে তিনি প্রথম লীগ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেন।

১৯৮২ বিশ্বকাপের পর ৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে বার্সেলোনায় যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে কোচ সি’জার লুইস মেনত্তির অধীনে বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে কো'পা দেল রে এবং অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে। তবে, বার্সায় ম্যারাডোনা কিছুটা খা’রাপ সময় কাটিয়েছেন। প্রথমে তাকে হেপাটাইটিসের সাথে লড়তে হয়। এরপর গোড়ালির ইন'জুরিতে প’ড়েন। অবশ্য, চিকিত্‍সা শেষে দ্রুতই মাঠে ফেরেন। বার্সেলোনার হয়ে ৫৮ খেলায় ৩৮টি গোল করেন।

বার্সেলোনায় থাকাকালে ক্লাব পরিচালকদের সাথে দ’ফায় দ’ফায় বিত’র্কে জড়িয়ে প’ড়েন ম্যারাডোনা; বিশেষ করে ক্লাব প্রেসিডেন্ট ইয়োসেপ লুইস নুনেজে’র সাথে। ১৯৮৪ সালে আরেকটি রেকর্ড ট্রান্সফার ফি-তে (৬.৯ মিলিয়ন ইউরো) সিরি এ ক্লাব নাপোলিতে যোগ দেন তিনি। তার যাদুর ছোঁয়ায় অখ্যাত নাপোলিকে চেনে সারা দুনিয়া ১৯৮৫ সালে নাপোলির হয়ে মাঠে নামেন।

এই ক্লাবেই ম্যারাডোনা তার পেশাদার ক্যারিয়ারের শিখরে পৌঁছান। খুব দ্রুত ক্লাবের সম'র্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার যাদুতে নাপোলিও তার ইতিহাসের সেরা সময় কা'টায় তখন। ম্যারাডোনার অধীনে ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে সিরি এ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে এবং ১৯৮৯-৮৮ ও ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে তারা রা’নারআপ হয়। তার সময়ে নাপোলি একবার কো'পা ইতালিয়া (১৯৮৭) জেতে এবং একবার রানার-আপ (১৯৮৯) হয়। ১৯৯০ সালে ইতালীয় সুপার কাপও জেতে নাপোলি। ১৯৮৭–৮৮ মৌসুমের সিরি এ-তে ম্যারাডোনা সর্বো’চ্চ গোলদাতা ছিলেন।

ইতালিতে বিভিন্ন ব্য’ক্তিগত স’মস্যায় জড়ান ম্যারাডোনা। তার কোকেইন নে’শা বহাল থাকে। অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকায় ক্লা’বের পক্ষ হতে তাকে ৭০,০০০ মা’র্কিন ডলার জ’রিমানা করা হয়। ইতালিতে তাকে পুত্রসন্তান সং’ক্রান্ত কেলে’ঙ্কা’রির মু’খোমুখি হতে হয়। এরপর ড্রা'গ টেস্টে ধ’রা পড়ে ১৫ মাসের নি’ষেধাজ্ঞা থেকে ফি’রে ১৯৯২ সালে ম্যারাডোনা নাপোলি ছে’ড়ে দেন।

তবে ম্যারাডোনা নাপোলির কাছে আজও সম্মানিত। নাপোলিতে তার অর্জনসমূহের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ক্লাবের ১০ নম্বর জার্সিটি দা’প্তরিকভাবে ব’ন্ধ করে দেওয়া হয়। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ফরাসি ক্লাব অলিম্পিকে মা’র্শেই ম্যারাডোনাকে দলে ভেড়াতে আগ্র’হী হলেও স্পেনের ক্লাব সেভিয়াতে যোগ দেন তিনি। সেখানে তিনি এক বছর ছিলেন।

১৯৯৩ সালে তিনি লিওয়েলস ওল্ড বয়েজে’র হয়ে খেলেন এবং ১৯৯৫ সালে তিনি বোকা জুনিয়র্সে ফি’রে আসেন এবং সেখানে দুই বছর খেলেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কিছু আগে ম্যারাডোনা টটেনহাম হ’টস্পারের হয়েও মাঠে নামেন ইন্টারন্যাজিওনালের বিপক্ষে। খেলায় টটেনহাম ২-১ গোলে জয় লাভ করে। তিনি গ্লেন হোডেলের সাথে খেলেন, যিনি ম্যারাডোনার জন্য তার ১০ নম্বর জা’র্সিটি ছেড়ে দিয়েছিলেন।

Back to top button