৫ টাকায় সারাদিন ইন্টারনেট, আয়ের সুযোগ ওয়াইফাই ব্যবহারকারীদেরও

বাংলাদেশী দুই তরুণ-তরুণী সামিহা তাহসিন ও ওম'রান জামাল কম খরচে ইন্টারনেট ব্যবহারের পদ্ধতি তৈরি করেছেন। তাদের উদ্ভাবিত ওয়াইফাই মোবাইল অ্যাপস ‘বন্টন কানেক্ট’ ব্যবহার করে সারাদিনে মাত্র ৫ টাকায় মিলবে ইন্টারনেট। এটিকে তারা ইন্টারনেটের ‘উবার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ পদ্ধতি উদ্ভাবনের বিষয়ে সামিহা তাহসিন জানান, একদিন তার ক্লাস রিলেটেড জরুরি লিংক ওপেন করতে গিয়ে তিনি দেখেন, তার ওয়াইফাই এরিয়ার মধ্যে না থাকায় সেটি খুলছে না। পরে মোবাইল ডাটারও সংযোগ পাচ্ছিলেন না। এসময় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।

তবে তিনি দেখেন, আরও কয়েকটি ওয়াইফাই কানেকশন থাকলেও পাসওয়ার্ড না থাকায় তা ব্যবহার করতে পারছেন না। তখন তিনি ভাবেন, তার নিকট পাসওয়ার্ডটা থাকলে তার কতই না উপকার হতো। তখনই তিনি ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক শেয়ার করার আইডিয়াটি পান এবং ওম'রান জামালের সঙ্গে শেয়ার করেন।

এরপরই ‘বন্টন কানেক্ট’ নামে দারুন আইডিয়াটির সূচনা হয়। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে যেকেউ তাদের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক শেয়ার করতে পারবেন। অন্যরা স্বল্প টাকার বিনিময়ে সেটি ব্যবহার করতে পারবেন। গত বছরের নভেম্বরে এটি যাত্রা শুরুর পর এটি বিদেশী বিনিয়োগও পেয়েছে।

জিএসএমএ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের নিচের সারিতে থাকা অন্তত ২০ শতাংশ মানুষের এক গিগাইবাইট (জিবি) ইন্টারনেট কেনার সাম'র্থ্য নেই। কারণ এর দাম তাদের মাসিক আয়ের প্রায় ১১ দশমিক চার শতাংশ। ওম'রান বলেন, ‘এ শ্রেণির মানুষ ছোট ডাটা প্যাক ব্যবহার করেন। এখন আম'রা এই দিকেই ফোকাস করছি।’ এর আগে তার জোবাইকসহ একাধিক অ্যাপে কাজ করার অ'ভিজ্ঞতা রয়েছে।

এই সেবার মাধ্যমে খরচের ২০ শতাংশ নেবে বোন্টন। বাকি ৮০ শতাংশ পাবে সেবাপ্রদানকারীদের। বন্টন ব্যবহারকারীরা মাত্র ৫টায় সারাদিন এই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ভ্রমণে থাকলে খরচ হবে ১০টাকা। অথচ মোবাইল অ'পারটেরদের নিকট থেকে এক জিবি ডাটা প্যাক কিনতে ২৫ থেকে ৭৭ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

জানা গেছে, বন্টনের বর্তমানে ৯ সদস্যের একটি টিম রয়েছে। তাদের মাধ্যমে রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্ম'দপুর এবং গ্রীন রোডে এ সেবা চালু রেয়েছে। বর্তমানে এটি ফ্রি সেবা দিচ্ছে। তবে ডিসেম্বর থেকে অর্থের বিনিময়ে এই সেবা গ্রহণ করতে হবে। এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জো'রদার করতে এখন কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সামিহা। এছাড়া সেবা ওয়াইফাই ব্যবহারকারী যাতে এর আওতায় আসতে পারেন তা নিয়ে এখন কাজ চলছে।

Back to top button