বিয়ের পর যখন বুঝলাম আমা'র স্বামী নপুংসক… পুরোটা পড়লে চোখে জল চলে আসবে…

ছে'লেবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল আমা'র বিয়ের। বিয়ে নিয়ে অনেক মে'য়েদেরই যেমন গো'পন স্বপ্ন থাকে, তেমন আমা'রও ছিল। স্বামী যে শুধু আমাকে পাগলের মত ভালবাসবে সেটা আর কে না চায়।

কিন্তু আমা'র ভবিষ্যৎ যে আমা'র জন্য এইরকম ভ’য়ঙ্কর কিছু প্ল্যান করে রেখেছে সেটা আমি জানতাম না। কলেজে পড়ার সময় দেখতাম একজন ছে'লে ও মে'য়ে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ একে অ'পরের কাধে মা'থা রাখছে। আমা'রও ইচ্ছে করত এইরকম কিছু করতে, কিন্তু পারতাম না। আমাদের পরিবার অনেক বড়। চার ভাই বোন আর বাপ মা।

বাকিদের সবাই বিয়ে করে নিয়েছিল, বেচে ছিলাম আমি একা। অনেক সময় আমি একাকী'ত্বে ভুগতাম। ভাবতাম তাহলে কি আমা'র জন্য বাড়ির কেউই ভাবে না ? আবার অনেক সময় ভাবতাম আমি মোটা বলে হয়ত আমাকে কেউ পছন্দ করেনা। এটা ভেবে হয়তো বাড়ির লোক এগোচ্ছেনা আমা'র বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে।

আমা'র প্রে'ম করতে ইচ্ছা হতো, কিন্তু মোটা অবস্থার কথা চিন্তা করে আমি নিজেই পিছিয়ে আসতাম। আর শুধু তাই নয় বাড়িও ছিল যথেষ্ট কড়া। তাই আমি প্রে'ম করলে একদমই তারা সহ্য করতে পারবে না। তাই প্রে'মের দিকে না গিয়ে আমি বাড়ির লোকের সিদ্ধান্তের উপরেই সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলাম।

অবশেষে আমা'র যখন ৩৫ তখন এক বছর চল্লিশের ছে'লে আমাকে বিয়ে করতে রাজী হয়। ততদিনে অবশ্য বাড়ি থেকে আরো কয়েকজনকে দেখা হয়েছিল। আমা'র বাড়ির লোকের একেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়। আমি নিজের মনের মধ্যে থাকা দুশ্চিন্তার কথাগুলো এই নতুন মানুষকে বলা শুরু করলাম। কিন্তু আমা'র মনে হল সে কিছু শুনতে আগ্রহী নয়।

বেশীর ভাগ সময়েই সে নিজের চোখ মাটির দিকে রেখে আমা'র সাথে কথা বলতো। আমি ভাবতাম সে লাজুক। বিয়ের পর প্রথম রাতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি দুধের গ্লাস হাতে ঘরে ঢুকে দেখি সে ঘুমিয়ে পড়েছেন। তার এই ব্যবহার আমাকে বিস্মিত করেছিল। দুঃখিতও।

বিয়ের পর কে'টে গেল আরও অনেক রাত, রোজ রাতেই একই ব্যাপার ঘটতে দেখে আমি শ্বাশুড়িকে জিজ্ঞাসা করলাম লজ্জার মা'থা খেয়ে। শ্বাশুড়ি জানালেন ও মে'য়েদের ব্যাপারে লাজুক। আমি নিজেও দু একবার ওকে নিজের দিকে আকর্ষিত করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু কোন লাভই হলনা। পরে পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে আমি জানতে পারি সে আসলে নপুংশক। বিয়ের আগেই ডাক্তারি পরীক্ষায় তা ধ'রা পড়েছিল, কিন্তু বাড়ির কেউ তা মানতে রাজি ছিল না বলে তাকে জো'র করে আমা'র সাথে বিয়ে দেয়।স্বামীকে সরাসরি একথা বলতে তিনি রেগে যান। আমা'র গায়ে হাতও তোলেন।

আমা'র সামনে দুটো রাস্তা খোলা ছিল। সারাজীবন সহ্য করা অথবা বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া। আমি দ্বিতীয়টাই বেছে নি। স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ার পর নিজের বাবা মা আমাকে ফিরিয়ে নেয়নি। আমিও ল'ড়াই ছাড়িনি। বন্ধুদের সাহায্যে এখন একটা থাকার জায়গা পেয়েছি, সেখানেই দিন কাটছে আমা'র। চেষ্টা করি ছে'লেদের থেকে যত দূরে থাকা যায়। মানসিকভাবে আর কারোর সাথে স'ম্পর্ক গড়ে তোলার কথা মনে হয়নি আমা'র।

Back to top button