মায়ের দোয়া সন্তানের সফলতার জন্য যথেষ্ট!

পৃথিবীর বুকে আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল ”মা”। যত আবদার যত অ’ভিযোগ সবই মায়ের কাছে। নাড়ী ছেড়া ধন সন্তানের জন্য দশ মাস দশ দিন শুধু নয়, মায়ের সারাটা জীবন উৎস্বর্গ করেও যেন মায়ের তৃ’প্তি নেই। কিন্তু সেই মায়ের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি আম’রা? বৃদ্ধাশ্রম তো একটা সুসন্তানের মায়ের জায়গা হতে পারে না..!মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য কত বড় আর্শীবাদ তা আম’রা অনেকেই হয়ত ভাবি না।

মায়ের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দোয়া অর্জন করে একটা সন্তান তার জীবনটা বদলে নিতে পারে। তেমন কিছু অ’ভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করব আপনাদের সাথে ধারাবহিক ভাবে। আব্দুলাহ মাহতাব। একজন সফল ব্যবসায়ী। যার ব্যবসার শুরুটা হয় সতের বছর বয়সে। মায়ের সাথে তার জীবন থেকে নেওয়া অ’ভিজ্ঞতার শেষ পর্ব শেয়ার করব আজ। সন্তানকে যতটুকু সুশিক্ষা দেওয়ার তার কোনটা দিতে মা কু’ন্ঠাবোধ করেননি। সৎ পথে চলার পরাম’র্শের সাথে কিভাবে সঠিক পথে জীবন গড়তে হবে তার উপযু'ক্ত শিক্ষাটা মা দিয়েছেন। দোয়া করে গেছেন জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সন্তানের জন্য।

বাবা মা’রা যাওয়ার পর থেকে জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সমস্ত পরিবারকে রেখেছেন স্নেহ মমতায়। নিজ সন্তানকে সতের বছর বয়সে সম্পত্তি তুলে দিয়েছিলেন ব্যবসার জন্য। সন্তানও সে সম্পত্তির যথাযথ সদ্যবহার করে সৎপথে উপার্জন করেছেন। মায়ের প্রতি কর্তব্যের কোন প্রকার অবহেলা করেননি সন্তান। শেষ সময় পর্যন্ত মায়ের পাশে থেকে সেবা করে গেছেন। মায়ের শেষ বিদায়ের আগ মুহুর্তের কিছু সৃ’ত্মি যা আজও আব্দুল্লাহ মাহতাবের স্ম’রনে আসলে মায়ের জন্য অজান্তে দুচোখে অঝোরে পানি ঝরতে থাকে।

মা মা’রা যাওয়ার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই অ’সুস্থ ছিলেন। বিছানায় পড়ে গিয়েছিলেন সম্পূর্ণরুপে। উঠতে পারতেন না বিছানা থেকে। এমনকি বিছানাতেই প্রসাব পায়খানা করেছেন। একদিন রাতের কথা মায়ের বিছানার পাশে গিয়ে দেখলেন মা খুব অস্ব’স্থ্যি বোধ করছেন। মুখঅবয়বে তা স্পষ্ট। বেশ ক’ষ্ট হচ্ছে তা মায়ের চােখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে অ’সুবিধা হল না। আস্তে করে মায়ের মুখ থেকে খুব অসহায় উচ্চারন তুমি এসেছ বাবা? আমি তো একটা কাজ করে ফেলেছি অজান্তেই।

বিছানায় প্রসাব করে ভিজিয়ে ফেলেছি। আমি বৃদ্ধ মানুষ, আমা’র প্রসাবে তো অনেক গন্ধ। মায়ের কথা শুনে সন্তানের সহ’জ ও সরল উত্তর আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমা’র প্র’সাব পায়খা’না কত য’ত্ন সহকারেই তো পরিস্কার করেছেন। আপনার তো ক’ষ্ট মনে হয়নি একটি বারের মত। আমা’র কেন ক’ষ্ট লাগবে। মায়ের প্রসাব মাখা পোষাক ও বিছানা পরিস্কার করানোর ব্যবস্থা করলেন। মায়ের জন্য এতটুকু করার সৌভাগ্য তো সব সন্তানের হয় না।

পরিস্কার ও শুকনা অনুভুতি পেতে মা আরাম অনুভব করলেন কিছুটা। সন্তানের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করলেন আল্লাহর দরবারে। চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে মাফ চাইলেন। সন্তানের মঙ্গলের জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে থাকলেন। মা’রা যাওয়ার আগে শেষ তিন দিনে একমাত্র সন্তানকে ওছিয়ত করে গেলেন। শেষ বারের মত উপদেশ দিয়ে গেলেন সৎপথে সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে। গরীব অসহায়ের পাশে দাড়াতে। কারো প্রতি অন্যায় আচরন করা থেকে বিরত থাকতে বললেন। মিথ্যা পরি’ত্যাগ করে সব সময় সত্যের আশ্রয় নিয়ে চলতে বললেন।

চোখে পানি নিয়ে সন্তানের কাছ থেকে মা মাফ চেয়ে নিলেন। সন্তানকে বললেন তোমা’র সব ভু’লত্রুটি আমি ক্ষমা করে দিলাম। আজ থেকে তোমা’র সকল ঋণও আমি মুক্ত করে দিলাম। লালন পালন থেকে শুরু করে বুকের দুধের ঋণ সহ সব ধরনের ঋণ থেকে তোমাকে দা’য়মুক্ত করে দিলাম। আমা’র দোয়া সব সময় তোমা’র সাথে থাকবে। সন্তানের জন্য আরও বলে গেলেন তোমা’র স্ত্রী'’’’কে সব সময় দেখে রাখবে। সন্তানদেরকে সঠিক ও উপযু'ক্ত শিক্ষায় মানুষের মত মানুষ করে তুলবে।

আর তোমা’র সম্পদ সঠিক ভাবে তাদের মধ্যে বন্টন করে দিবে। আমি তাদের জন্যও দোয়া করে যাচ্ছি। পরের দুই দিনে মায়ের শরীর আরও খা’রাপ হতে থাকে। শেষ নিঃশ্বা’স ত্যাগ করে দুনিয়ার মায়া ত্যা’গ করে বিদায় নেন। সন্তান এবং মায়ের স’ম্পর্ক দুনি’য়ার মধ্যে সবচেয়ে মধুর স’ম্পর্ক। মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য পথ চলার পাথেয়। আমাদের অনেকেই মায়ের যথাযথ সম্মান করতে পারি না। স্ত্রী'’’’ সন্তান দুনিয়ার মোহে পড়ে মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেই।

কিন্তু এটুকু বিশ্বা’স করেন মা বাবা সন্তানের জন্য অনেক বড় নিয়ামত। পৃথিবীর সমস্ত সফলতা একমাত্র মায়ের দোয়ার বদৌলতে আসতে পারে। সময় থাকতে মায়ের সেবা করে দোয়া আদায় করে নিন। কর্তব্য পালনের মাধ্যমে মধুর স’ম্পর্ক তৈরী করুন। দুনিয়ার মায়ের সেবা করার মাধ্যমে পরকালে পরকালে বেহশত পাওয়ার রাস্তাও সুগম হবে।

Back to top button