শ্রাবন্তীর সঙ্গে আপনার যোগাযোগ আছে কিনা? উত্তরে যা বললেন রোশন

শাহরুখ খান থেকে অমিতাভ বচ্চন কে চড়েনি তার ফ্লাইটে! এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু সুপারভাইজারের চাকরি ছেড়ে, পরে জিমনেসিয়াম খুলেছেন। কিন্তু তাকে সবাই চেনে তার স্ত্রী' ও টলিউড অ'ভিনেত্রী শ্রাবন্তীর তৃতীয় স্বামী হিসেবেই।

স্ত্রী'-অ'ভিনেত্রী শ্রাবন্তীর সঙ্গে স'ম্পর্কের টানাপোড়েন বারবার সংবাদ শিরোনামে এনেছে রোশন সিংয়ের নাম।এমনিতে কাউকে সাক্ষাৎকার দেন না তিনি। তবে ভা'রতীয় জনপ্রিয় বাংলা সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাকে এড়িয়ে যেতে পারেননি। সাক্ষাৎকারের আগে আনন্দবাজারকে শর্ত দিয়েছিলেন, শ্রাবন্তীকে নিয়ে কোনও প্রশ্ন করা যাবে না। কিন্তু দিলখোলা রোশন সিংহ নিজের নতুন ব্যবসা থেকে স'ম্পর্ক সব নিয়েই কথা বললেন।

রোজ ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করেন আপনি। অথচ সাক্ষাৎকার দিতে চান না কেনো এমন প্রশ্নে জবাবে রোশান জানান, আমা'র কাজ নিয়ে তো কেউ জানতে চায়নি কখনও! শুনুন, আমি একটা সময়ে একটা এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু সুপারভাইজার ছিলাম। ১৩ বছর ওই চাকরিটা করেছি। পরবর্তীকালে চাকরি করতে করতেই দু’টো জিম খুলে ফেলি। শরীরচর্চা আমা'র প্যাশন। এখন জিমের প্রমোশনেই ইনস্টাগ্রামে থাকি। তবে এই সোশ্যাল মিডিয়া খুব খা'রাপ জায়গা।

সোশ্যাল মিডিয়া কেন খা'রাপ তার জবাবে তিনি জানান,আরে, আমা'র এক বন্ধু সুশান্ত সিংহ রাজপুতকে নিয়ে একটা ছবি পাঠিয়েছিল। বলেছিল, হাসিটা ঠিক আমা'র মতো। সেটাই আমি ইনস্টায় পোস্ট করি। ব্যাস! ট্রোলড! লোকে লিখতে শুরু করল, আমিও এ বার সুশান্তের মতো গলায় দড়ি দিয়ে ম'রব! মে'রেই ফেলল আমায়! এখন যা-ই পোস্ট করি, লোকে খা'রাপ বা ভুল কমেন্ট করতেই থাকে। আর শুধু তো আমা'র ওপর নয়। ওর (শ্রাবন্তীর নাম না করে) প্রোফাইলেও যা খুশি লেখা হচ্ছে। লোকে ওকে ওর মতো থাকতে দেবে না! সোশ্যাল মিডিয়া খুব খা'রাপ জায়গা হয়ে গিয়েছে। যে যা করছে করতে দাও। আনএথিকাল খবর করে কী' লাভ?

একজন অ'ভিনেত্রীর সঙ্গে সংসার করা কতটা চ্যালেঞ্জিং এমন প্রশ্নের জবাবে রোশান জানান, আর পাঁচটা সংসারের মতোই আমাদের সংসার ছিল। ও যে সুপারস্টার, সেটা বাড়িতে থাকলে কোনওদিন বুঝতে দেয়নি। এমনকি, আমা'র পরিবারের সঙ্গেও মিশে গিয়েছিল। ওর ছে'লের সঙ্গেও বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল আমা'র। ৪০৭ (মালবাহী ম্যাটাডর) চালায় আমা'র এক বন্ধু। তার সঙ্গেও ও মিশতে পারত। তবে আমি মনে করি, যা হয় সবসময় ভালর জন্যই হয়। এর বেশি আমি কিছু বলব না। প্লিজ!

চাকরি ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই চাকরি থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। নিয়মানুবর্তিতা। কথা বলার ধরন। পোশাক নিয়ে সচেতনতা। এদিক থেকে ওদিক হলে চাকরিতে লাল দাগ। অন্য দিকে কত রকমের মানুষ দেখেছি। শাহরুখ খান থেকে অমিতাভ বচ্চন- সকলে আমা'র ফ্লাইটে চড়েছেন। সুস্মিতা সেনের সঙ্গে আড্ডা হয়েছে। একবার সোহেল আর সলমন খানও ছিলেন। মুম্বই থেকে হায়দরাবাদ যাচ্ছিলেন। আম'রা মজা করে বলেছিলাম, স্যারের সঙ্গে ডিনার করব। উনি সেটা শুনে রাতেই পুরো টিমের জন্য হায়দরাবাদের হোটেলে বিরিয়ানি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

আমি খুব আবেগপ্রবণ। ৩১ ডিসেম্বর ছুটি না পেলে ভেঙে পড়তাম। হোলিতে কাজ করতে ভাল লাগত না। আর কলকাতা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার কথা আমি এখনও ভাবতে পারি না।সিনেমায় অ'ভিনয় করতে ইচ্ছে হয়নি এমন প্রশ্নে জেরে বলেন, আমি তো সিনেমা নিয়েই সংসার করেছিলাম। পুরো ইন্ডাস্ট্রি আমা'র চেনা। আমা'র জিমে শ্যুটিংও হয়েছে। কিন্তু আমি ‘নেম’ বা ‘ফেম’ কিছুই চাইনি। এখন যদিও অন্য কারণে, উল্টো দিক থেকে নাম হয়ে যাচ্ছে! তবে আমা'র মনে হয়, আমি অ'ভিনয় করলে প্রযোজকরা ফেল করে যাবে। সেটা হতে দেওয়া যায় না।

আপনি কিন্তু শ্রাবন্তীর বর হয়েই থেকে গিয়েছেন এমন প্রশ্নে জাবাব সায় দিয়ে তিনি বলেন, হ্যাঁ। সেটা খুব বুঝতে পারি। কিন্তু আমা'র কাজের মধ্যে দিয়ে, নতুন ভাবনা দিয়ে এ বার চলব।শ্রাবন্তীর আপনার সঙ্গে যোগাযোগ আছে কিনা? তিনি বলেন, নাহ্। এখন তো আর যোগাযোগ নেই।

Back to top button