‘আমা'র এখন আর কাজে মন বসে না’

নজরুল ইস'লাম খান পরিচালিত বহুল আ'লোচিত সিনেমা ‘রানা প্লাজা’। এ সিনেমাটিতে চিত্রনায়িকা পরীমনির বিপরীতে অ'ভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন সেন্সর বোর্ডে আ'ট'কে ছিল সিনেমাটি।

বেশ কিছু দৃশ্য, রানা প্লাজা ধসের চিত্রায়ণ প্রভৃতি নিয়ে আ'পত্তি তোলে সেন্সর বোর্ড। এরপর সিনেমাটির সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ার বিষয়টি গড়ায় আ'দালতে। সিনেমাটির কিছু দৃশ্য কর্তন করেও শেষ রক্ষা হয়নি। সিনেমাটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। পরিচালক নজরুল ইস'লাম খান বলেন, ‘‘রানা প্লাজা’ অনেক সাধনার একটি সিনেমা। কিন্তু আজো মুক্তি পায়নি এটি।

এর জন্য যে কতটা দুঃখবোধ কাজ করে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। সিনেমাটি একটি ডিজাস্টার নিয়ে নির্মিত। কিন্তু এ সিনেমা এখন আমা'র জীবনেই ডিজাস্টার হয়ে এসেছে। দুইবার এ সিনেমা'র মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়। শেষ মুহূর্তে মুক্তি আ'ট'কে দেয়া হয়। ‘রানা প্লাজা’ আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে। এরপরে দুটি সিনেমা'র নির্মাণ শুরু করেও শেষ পর্যন্ত করা হয়নি। আমা'র এখন আর কাজে মন বসে না।’’

পরিচালক নজরুল ইস'লাম এই সিনেমায় তার টাকাও বিনিয়োগ করেছেন। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি এই সিনেমা'র একজন পার্টনার ছিলাম। আমা'র সারা জীবনের ইনকাম এই সিনেমায় খরচ করেছি। এখন পর্যন্ত তিন কোটি টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে। এই টাকা কোনোদিন আসবে কি না জানি না। আমি নিজেই ডিজাস্টার হয়ে গেছি। এই বিচার কার কাছে দেব। সিনেমাটির মুক্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!

২০১৩ সালে সাভা'রে ‘রানা প্লাজা’ নামে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। এই ঘটনার ১৭ দিন পর অর্থাৎ ১০ মে ধ্বংসস্তূপ থেকে রেশমা নামে এক মেয়েকে জীবিত উ'দ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাতা নজরুল ইস'লাম খান তৈরি করেন এ চলচ্চিত্র। এ নির্মাতা জানান, এ সিনেমা'র কোথাও যদি গার্মেন্টস সেক্টরকে ছোট করে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে, তবে সিনেমাটি ব্যান করলে তার কোনো আ'পত্তি নেই বলে জানান তিনি।

পোশাকশ্রমিক ‘রেশমা’-এর চরিত্রে অ'ভিনয় করেছেন পরীমনি। আর সাইমন অ'ভিনীত চরিত্রের নাম টিটু। এছাড়াও এতে অ'ভিনয় করেছেন-আবুল হায়াত, সাদেক বাচ্চু, কাবিলা, রেহানা জলি, শিরিন আলম, শিউলী আকতার, হাবিব খান প্রমুখ। পরিচালক নজরুল ইস'লাম খানের কাহিনি ও চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত এ সিনেমা'র সংলাপ লিখেছেন মুজতবা সউদ। চিত্রগ্রহণ করেছেন এম এইচ স্বপন।

Back to top button