‘এবার মিশা ও জায়েদকে আজীবনের জন্য বয়কট করা হবে’

একের পর বয়কট আর নানা সংকটে আলোচনায় মৃ'তপ্রায় ঢাকাই সিনেমা। কিছুদিন আগেই সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমে জ'ড়িত থাকার অ'প'রাধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতিসহ সিনেমা সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন থেকে বয়কট করা হয়েছিলো

চলচ্চিত্রের শিল্পীদের দুই নেতা মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানকে।এবার নির্বাচনে অনিয়মের অ'ভিযোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২০২১ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটিকে বাতিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জায়েদ খানের লিখিত অ'ভিযোগের প্রেক্ষিতে ত'দন্ত করে সেই অ'ভিযোগের সত্যতা পেয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্ত্রণালয়।

সেইসঙ্গে একজন উপসচিবকেসংগঠনটির প্রশাসকের দায়িত্বে বসানো হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তকে ভালো'ভাবে নেয়নি এফডিসি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। পাশাপাশি যে অ'ভিযোগের জেরে কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার আধ্যাদেশ জারি করেছে সে অ'ভিযোগও সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন নেতারা। মি'থ্যে অ'ভিযোগ দেয়ায় জায়েদ খানের উপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চলচ্চিত্র পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ নেতা বদিউল আলম খোকন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে অ'ভিযোগের ভিত্তিতে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নতুন কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে সেটি সত্যি নয়। জানিনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আম'রা আলোচনায় বসছি। দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।সদ্য বিলুপ্ত প্রযোজকদের কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি হিসেবে খোরশেদ আলম খসরু ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামসুল আলম কখনই সংঘবিধি ও সংঘস্মা'রকের ৫(৫) ধারা লঙ্ঘন করেননি। এটা মি'থ্যে অ'ভিযোগ। প্রতিহিং'সার বহিঃপ্রকাশ।’

এদিকে প্রযোজক সমিতির কমিটি বাতিলের পাশাপাশি জায়েদ খানের উপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো সমিতি সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আরেক আদেশে জায়েদ খানকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সদস্যপদ সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত যু'ক্তিসঙ্গত নয় বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তাকে ছবি নির্মাণ ও অ'ভিনয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা না

দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘‘জায়েদ সিনেমা'র কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন। তার পারিশ্রমিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার। এই পারিশ্রমিকেও তাকে কেউ কাজে নিতে চায় না। সে সাংগঠনিক ছে'লে। সেজন্য সিনিয়র-জুনিয়র অনেকেই তাকে সাপোর্ট দিয়েছিলো যখন একটা আ'ন্দোলন চলমান ছিলো সিনেমা'র স্বার্থে। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে সে নিজেকে যা-তা ভাবছে।

তার মতো একজন মানুষের জন্য সিনেমা'র এতোবড় ক্ষতি হতে পারে না। সে ক্ষমতা দেখাচ্ছে। এটা ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা না। আর, একটা বিষয় ক্লিয়ার করতে চাই, মিশা-জায়েদকে বয়কট করেছে সিনেমা'র ১৮টি সংগঠন। প্রযোজক সমিতির কমিটি না থাকলেও বাকী' ১৭ সংগঠন আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে। মিশা-জায়েদের বয়কট সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

বরং মি'থ্যে অ'ভিযোগে সিনেমা'র সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে জায়েদ খান বিষয়টি নোংরামির চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। সেজন্য মিশা-জায়েদকে আজীবন বয়কট করা হবে।’এদিকে প্রযোজক সমিতির কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু জানান, ‘কমিটি বাতিলের বিষয়টি আম'রা মাত্রই জানলাম। দুই-তিন দিনের মধ্যেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ
ব্যাপারে আপিল করা হবে।’

Back to top button