র’ক্ত দিয়ে চিঠি লেখা প্রথম স্ত্রী'র স’ঙ্গে যে কারণে বি’চ্ছেদ আমির খানের!

বলিউডের ‘মি. পা’রফেক্টশনিস্ট’খ্যাত নায়ক আমির খান। সিনেমা’র প’র্দায় সবকিছু নিখুঁ’তভাবে তুলে ধ’রার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ব্য’ক্তিগত জীবনটা তার মোটেও নিখুঁ’ত নয়। প্রে'ম, বিয়ে নিয়ে অনেকবারই আলোচনায় এসেছেন এই অ'ভিনেতা।

আমির খান একবার মজা করে বলেছিলেন, ‘আমা’র জীবন নিয়ে সিনেমা তৈরি হতে পারে। এতে আমা’র ভূমি’কায় অ'ভিনয় করবে ছে'লে জুনাইদ।’ সত্যিই এই অ’ভিনেতার জীবনের গল্প সিনেমা’র চেয়ে কোনো অংশ কম নয়। আর রিনা দত্তের স’ঙ্গে প্রে'ম, বিয়ে আমিরের জীবনের অন্যতম আ’লোচিত অংশ।

প্রথমবার প্রে'মের প্রস্তাব দিয়ে প্র’ত্যাখ্যাত হন আমির খান। দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের চে’ষ্টাতেও মে'য়ের মন জয় ক’রতে পারেননি। চতুর্থ বার প্রে'ম নিবেদন করেও ব্য’র্থ হন আমির। এই মে'য়ে আর কেউ নয়, আমিরের প্রথম স্ত্রী' রিনা দত্ত।

আমিরের পাশের বাড়িতেই থাকতেন রিনা। বাড়ির জা’নালাও ছিল পাশাপাশি। সেই জা’নালা দিয়ে প্র’কৃতি দে’খতে গিয়েই রিনার প্রে'মে প’ড়েন এই অ'ভিনেতা।১৯৯৯ সালের এক সা’ক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘স্বা’ভাবিকের চেয়ে একটু বেশি সময় আমি জা’নালার কাছে কা'টাতাম। এরপর আমি তাকে আমা’র ভালোবাসার কথা জা’নাই। আমি আশা করেছিলাম তারও আমা’র ব্যা’পারে একই অনুভূতি হবে।

কিন্তু জা’নতে পারলাম আমাকে সে ভালোবাসে না। আমি খুব ভে’ঙে প’ড়েছিলাম। কিন্তু সহ'জে ছে’ড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলাম না। কোনো বিষয়ে ‘না’ শু’নতে রাজি নই। দুই দিন পর তার স’ঙ্গে আবার দেখা হয়। তখনও সে একই কথা বলে। এরপর জা’নালা থেকে সরে যেতে থাকি। এতটাই দুঃ’খ পে’য়েছিলাম যে, তাকে ভুলে এবং তার কাছ থেকে নিজেকে দূ’রে রাখার চেষ্টা করতাম।’

রিনাকে নিজে’র র’ক্ত দিয়ে চিঠি লি’খেছিলেন আমির। এই অ’ভিনেতার ভাষায়, ‘মনে করেছিলাম তার প্রতি আমা’র গ’ভীর ভালোবাসা প্র’কাশের এটিই একমাত্র মাধ্য’ম।’ পরবর্তী সময়ে আমিরের ভালোবাসার ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন রিনা। কিন্তু তাদের প্রে'মের পথ সুগম ছিল না। রিনা দত্ত ছিলেন হিন্দু ধ’র্মাবলম্বী। অন্যদিকে আমির মু'সলিম।

পরিবার তাদের স’ম্পর্ক কিছুতেই মেনে নেয়নি। পা’লিয়ে বিয়ে ক’রাটাকেই একমাত্র পথ হিসেবে মনে করেন তারা। অ'পে’ক্ষা করলেন নি’র্দিষ্ট সময়ের জন্য। ১৯৮৬ সালের ১৪ মা’র্চ। আমিরের বয়স ২১। অন্যদিকে রিনার ১৯। কয়েকজন ব’ন্ধুর সহযো’গিতায় ম্যারেজ রেজিস্টার অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন এই জুটি। এরপর নিজ নিজ বাড়িতে ফি’রে যান। কারণ রিনার পড়াশোনা তখনো শেষ হয়নি। আর আমিরও তখন খুব বেশি আয় ক’রতেন না।

‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’ সিনেমা’র পর তাদের প্রে'মের বিষয়টি প্র’কাশ্যে আ’সতে থাকে। রিনা ও আমিরের দা’ম্পত্য জীবনে দুই সন্তান— জুনাইদ ও ই'রা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সহ-অ'ভিনেত্রীদের স’ঙ্গে আমিরের প্রে'মের গু’ঞ্জন রিনার ওপর বড় ধ’রনের প্র’ভাব ফে’লে। ২০০২ সালে এই দ’ম্পতির বিবাহ বি’চ্ছেদ হয়। তবে বি’চ্ছেদ নিয়ে তাদের কোনো তি’ক্ততা তৈরি হয়নি।

এমনকি এ বিষয়ে তারা কোনো কথাও বলেননি। এখনো তাদের মধ্যে সুস’ম্পর্ক রয়েছে। আমিরের ৫০তম জ’ন্ম'দিনের পার্টিতে হাজির হ’য়েছিলেন রিনা।এক সা’ক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘রিনা আমা’র জীবনে খুবই গু’রুত্বপূর্ণ। আমা’র পরিবারের অংশ এবং সবসময়ই থাকবে। আ’ইনত আমাদের বি’চ্ছেদ হয়েছে। কিন্তু তার স’ঙ্গে আমা’র যে ব’ন্ধন তা এই সামান্য কাগজে’র কারণে শে’ষ হবে না।’

২০০৩ সালে এক সা’ক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘রিনা ও আমি ১৬ বছর দা’ম্পত্য জীবন পার করেছি। আম’রা একস’ঙ্গে বড় হ’য়েছি এবং যখন বিয়ে করি আমাদের বয়স অনেক কম ছিল। বি’চ্ছেদটা দু’জনের জন্যই অনেক ক’ঠিন ছিল। স’ম্পর্কটা আমাদের কাছে বিশেষ ছিল। এর স’ঙ্গে মানিয়ে নিতে আমা’র দুই বছর লে’গেছে।

কারণ আমি খুবই আ’বেগপ্রবণ। যখন আম’রা আলা’দা হওয়ার সি’দ্ধান্ত নিই, রিনা ও আমি আগে বা’চ্চাদের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি।’আমির ও রিনা দ’ত্তের বিবাহ বি’চ্ছেদ কেন হয়েছিল তা এখনো অজা’না। তবে ধারণা করা হয়, এই অ’ভিনেতার বর্তমান স্ত্রী' কিরণ রাওয়ের স’ঙ্গে ঘ’নিষ্ঠতার কারণেই আমির-রিনার বি’চ্ছেদ হয়।

Back to top button