আইন পাস হলেই এইচএসসির ফল

করো'না প্রাদুর্ভাবের মধ্যে পরীক্ষা ছাড়াই ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে সংসদে তিনটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। এসব বিল দ্রুত পাস করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

দ্রুত ফলাফল দেয়ার জন্য বিলগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে অল্প সময় দিয়ে পাঠানো হয়েছে।মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল- ২০২১ সংসদে উত্থাপন করেন।

পরে ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন বিলটি একদিনের মধ্যে এবং বাকি দুটি দুইদিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় স'ম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এর আগে সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সংসদে বিলটি তোলার সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আমাদের প্রস্তুত রয়েছে। বিদ্যমান আইনে যেহেতু রয়েছে পরীক্ষার পর ফল প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু বৈশ্বিক মহামা'রির কারণে আম'রা এবার পরীক্ষা নিতে পারিনি। বিশেষ পদ্ধতিতে ফল দিতে চাইছি। এজন্য আইনটি সংশোধন প্রয়োজন। মহান সংসদ থেকে আইনটি পাস করে দিলেই দ্রুততার সঙ্গে আম'রা ফলাফল প্রকাশ করতে পারব।

এদিকে, বিলটি উত্থাপন নিয়ে সংসদে আ'পত্তি জানান জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ফখরুল ই'মাম। নিয়ম অনুযায়ী সংসদে উত্থাপনের আগে নোটিশ না পাওয়ায় তিনি আ'পত্তি জানান। একইসঙ্গে মন্ত্রিসভা'র বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য নিয়েও আ'পত্তি জানান তিনি।

বিলের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ই'মাম বলেন, সংবিধানের ১৭ (ক) ধ'রায় বলা আছে ‘একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান।’ সেখানে ১২ বছর রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েছে। এখন আপনি পরীক্ষা তুলে দিবেন এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না? ওখানে পরীক্ষার কথা বলা আছে, পদ্ধতির কথা বলা আছে, পরীক্ষা ওঠানোর কথা নেই তাই এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না?

তাছাড়া কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ (ঙ) অনুসরণ না করায় সংসদ সদস্যদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী দলীয় এই এমপি। তিনি বলেন, এই বিলটি অ'ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিলের বি'রুদ্ধে আমি নই। কিন্তু এখানে কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭-এর (ঙ) অনুসারে যেকোনো বিল তিনদিন আগে পাওয়ার কথা ছিল আমা'র। কিন্তু আমি তা পাইনি। কালকেও আমি খুঁজেছি, পাইনি।

এর জবাবে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আমা'র অনুমতি সাপেক্ষেই বিলটি এসেছে। কেননা এর কিছু গুরুত্ব আছে। এই তিনটি বিল আমাদের পাস করে দিতে হবে। সেই বিবেচনায় এই বিলগুলোকে আসার সম্মতি দিয়েছি।

এরপর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এই বিল অ'ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এইচএসসি ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থী-অ'ভিভাবক সবাই অ'পেক্ষা করছেন এবং আমাদের ফলাফল সব প্রস্তুতও আছে। কিন্তু যেহেতু আইনে পরীক্ষা গ্রহণপূর্বক ফলাফল দেবার বিষয়টি ছিল। এবার যেহেতু বৈশ্বিক সঙ্কটের কারণে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। আম'রা বিকল্প একটি পদ্ধতিতে আগের দুটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই ফলাফল দিতে যাচ্ছি। সে কারণে বর্তমান আইনটি সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সে কারণে এটি আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিলটি মন্ত্রিপরিষদে আনার পর বলেছিলাম যেহেতু ১৮ তারিখ সংসদ শুরু হবে, তারপর দ্রুততার সঙ্গে উত্থাপনের চেষ্টা করবো। যেদিন সংসদ পাস করবে, যদি সংসদ পাস করে তারপর আম'রা দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল দেব। এটি অবশ্যই সংসদের এখতিয়ার। সংসদ কবে পাস করবে তার ওপর নিশ্চয়ই কথা বলবার এখতিয়ার নেই। সংসদের এখতিয়ারের ওপর কারো হাত দেবার সুযোগ নেই। অ'ত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই দ্রুততার কথা এসেছে। এটি অ'ত্যন্ত জরুরি। আমাদের বোর্ডের সমস্ত পরীক্ষা এই আইনের অধীনেই হয়। পরে বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয় এবং একদিনের মধ্যে বিলের রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছে।

Back to top button