শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এইচএসসি’২১ ব্যাচের পরীক্ষার্থীর খোলা চিঠি

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী! আজ আম’রা দোদুল্যমান অবস্থায় আছি। আম’রা বারবার আপনার সিদ্ধান্তের অ’পেক্ষার প্রহর গুনছি। করো’না মহামা’রি সবকিছুকেই স্তিমিত করে দিয়েছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটাকেও।

২০২০ সালের পরীক্ষার্থীদেরকে অটোপাস দেওয়া হয়েছে। রয়ে গেলাম আম’রা ২০২১ সালের পরীক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতেই বারবার আমাদের ছুটি বাড়ানো হচ্ছে। পিছিয়ে যাচ্ছে আমাদের পরীক্ষাও।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী! আপনি জানেন। আমাদের এইচএসসির পরীক্ষা জীবনের একটা ভিত্তি। এর ওপর নির্ভর করেই আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে হবে। আম’রা ইতিপূর্বে অনেক লেখালেখি করেছি। যার ভিত্তিতে বলা হয়েছিল, আমাদেরকে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপরও অনেক কিছুই না বলা রয়ে গেছে।

করো’নার মাঝেই আমাদের থেকে অনলাইনে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সেই পরীক্ষা অনেকেই দিতে না পারায় আম’দের কলেজ থেকে তাদেরকে পাস দিয়ে দেওয়া হয়। অন্যান্য কলেজে কী'’ করা হয়েছে তাতো অজানা। তারপরেই সাথে সাথে আমাদের ভর্তির তারিখ ঘোষণা হলো। যথারীতি ভর্তি নেওয়া হলো। সেই সময়ে আম’রা ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ফি দিয়ে ভর্তি হয়েছি। যা হয়তো অনেক পরিবারের পক্ষে যোগান দিতে এক প্রকার যু’দ্ধই করতে হয়েছে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী! তারপর কী'’ হয়েছে তা কি জানেন? অনলাইন ক্লাস ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ আমাদের অনেকের স্মা’র্ট ফোন নেই এবং অনেকেরতো কেনার মতো সাম’র্থ্যটুকুও নেই। যেখানে দুমুঠো ভাতের জন্য হাহাকার, সেখানে স্মা’র্ট ফোন! আর যাদের আছে তাদের?! নেট কেনার জন্য পকে’টে টাকা থাকা চাই। সেটাও না হয় ব্যবস্থা করে নিলাম কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী। কিন্তু নেটের মূল্য! তাতো যেন আকাশচড়া!

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী! করো’না স্বাভাবিক হলে তো পরীক্ষা হবে। কিন্তু আমাদের পিছিয়ে যাওয়া পড়াশোনা! আমাদের অসম্পূর্ণ সিলেবাস! তা কী'’ করবেন?! ধরেই নিলাম দুমাস বা তিন মাস ক্লাস নেওয়া হলো। এতো অল্প সময়ে পিছিয়ে যাওয়া পড়াশোনা আর দীর্ঘ এক বছরের সিলেবাস তা তিন মাসে পুষিয়ে নেওয়া কি সম্ভব? এতো ম’রার উপর খাড়ার ঘা। অথচ করো’নার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই কাজে নেমে পড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। পরিবার চলতে হবেতো!

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী! আপনি কি জানেন, অনেক পিতা আজ বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেক প্রবাসী পিতাও করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়ে ঋণের বোঝা টানছেন? অথচ গ্রাম থেকে ছুটে আসা স্বপ্নচারী এক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা নেওয়া শুরু হলে তাদের কোথায় আসতে হবে? এই শহরেই ব্যাচেলার ভাড়া থেকে পড়াশোনা ও পরীক্ষার দিতে হবে। এছাড়াও রয়েছে ফর্ম ফিলআপেরসহ নানান অর্থের টানাপোড়ন। তার ওপর আবার রয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য কোচিং ফি।

শিক্ষার্থীদের এই বেকার পিতা বা অ’ভিভাবক যিনি করো’নার কারণে ঋণের বোঝা টানছেন তিনি কোথা থেকে সন্তানের খরচের পাহাড় জোগান দিবেন?মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী! আশা করছি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। আপনাদের সিদ্ধান্তই আমাদের ভরসা। আপনারাই আমাদের অ’ভিভাবক। আপনাদেরই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ভবিষ্যত স্বপ্ন পূরণে পরিকল্পনা করে এগুতে হবে। কিছু কথা তুলে ধরলাম। নিজের চিন্তা ভাবনায় যা এসেছে। এমন হাজারো শিক্ষার্থী বিভিন্ন পরিস্থিতির শিকার। একবুক আশা নিয়েই লেখা।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী! আম’রা জানি আপনারাও বসে নেই। এমন পরিস্থিতি থেকে অনেক কিছুই অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন। বুঝতে পারবেন অনেক কিছুই যা প্রায়শই থেকে যায় আমাদের চক্ষুর আড়ালে। থেকে যায় হাজারো অ’প্রকাশিত অশ্রুসিক্ত নয়ন। আশা করছি আর্থিক বিষয়টিও দেখবেন।

লেখক: মো. সাইফুল ইস’লাম, লালবাগ সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

Back to top button