প্রাথমিক শিক্ষকদের হয়'রানি বন্ধে নতুন উদ্যোগ

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষকদের হয়'রানি মুক্ত রাখতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় (ডিপিই)। এজন্য রাজধানী ঢাকার উপর চাপ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এমন তথ্যই জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে, প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজের জন্য শিক্ষকদের রাজধানীতে আসতে হয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। অধিদপ্তর সচিবালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ির কারণে শিক্ষকদের কাজের দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়। এতে তাদের ডকুমেন্ট সাবমিট পদোন্নতিসহ নানা কাজের জটিলতা সৃষ্টি হয়। একইসঙ্গে শিক্ষকরা আরো নানাভাবে হয়'রানির শিকারও হন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মক'র্তা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করতে শিক্ষকদের শিখন কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষকদের হয়'রানি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ক'ষ্ট করে আর ঢাকায় আসতে হবে না। নিজ জে'লায় থেকেই তাদের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। এবং তাদের সমস্যা সমাধান করতে পারবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, এক্ষেত্রে জে'লা কর্মক'র্তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। জে'লা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস (ডিপিইও) ও বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষকদের কাজে সহযোগিতা করা হবে। শিক্ষকরা তাদের পিতৃত্বকালীন, মাতৃত্বকালীন, আন্ত:বিদেশসহ নানা ছুটি নিতে পারবে জে'লা পর্যায় থেকে। এছাড়াও বদলির আদেশ, বেতন জটিলতাসহ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সব ধরনের সমস্যা জে'লা পর্যায় থেকেই সমাধান করতে পারবে।

অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা যায়, খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হবে। আর এতে শিক্ষকদের কাজের গতি বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্নও ঘটবে না।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্ম'দ মনসুরুল আলম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও কাজের গতি নিশ্চিত করতে আমাদের এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মক'র্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। তারা তাদের দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করবে বলে আমি বিশ্বা'স করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ উদ্যোগের মাধ্যমে কাজের গতিশীলতা বাড়বে। এক্ষেত্রে যদি প্রশাসনিক কাজে কোনো ধীরগতি হয় এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মক'র্তাদেরকে জবাবদিহিতা করতে হবে।’

Back to top button