শিক্ষায় নতুন পদক্ষেপ, শিক্ষকরা যা বলছেন

শিক্ষায় আসছে বড় পরিবর্তন। ২০২২ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন কারিকুলামে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। বদলে যাবে বই, বইয়ের ধরন ও পরীক্ষা পদ্ধতি। বাদ যাবে অষ্টম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভাগ ভিত্তিক (বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য) পড়াশোনাও।

এছাড়া শিখন কৌশলেও নানা পরিবর্তন আসবে। এ বিষয়ে একটি শিক্ষাক্রম রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই রূপরেখা তৈরি করেছে। নতুন এই পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করছেন শিক্ষক-অ'ভিভাবক ও অংশীজনরা। তারা বলছেন, এগুলো খুবই ভালো পদ্ধতি। কিন্তু এর আগে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে।

নতুন এই কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষকরা বলছেন, এই রূপরেখায় যেভাবে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন হচ্ছে তা আমাদের মতো সমাজে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। পঞ্চ'ম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষের মূল্যায়নে বার্ষিক পরীক্ষার চেয়েও বেশি নম্বর রাখা হয়েছে। আর দশম শ্রেণিতেও ৫০ শতাংশ। কিন্তু শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

আর সব শিক্ষক কতটা নিরপেক্ষভাবে এই মূল্যায়ন করবেন, সেটা নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। শিক্ষকদের বক্তব্য, শুরুতে এই ধরনের মূল্যায়নে কম নম্বর রেখে বিষয়টি পাইলট আকারে দেখা যেতে পারে। বিষয়টিতে সাফল্য পাওয়া গেলে শ্রেণিকক্ষের মূল্যায়নে ধীরে ধীরে নম্বর বাড়ানো যাবে। নতুন শিক্ষাক্রম রূপরেখায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন হবে।

এদের কোনো বার্ষিক পরীক্ষা হবে না। ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন এবং বার্ষিক পরীক্ষা হবে ৩০ শতাংশ নম্বরের। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণিতে ৬০ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন এবং ৪০ শতাংশ বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন হবে। আর একাদশ, দ্বাদশে ৩০ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন ও ৭০ শতাংশ পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন হবে।

Back to top button