মাত্র পাওয়া : ছুটি বাড়ছেই, সঙ্কটে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

এদিকে ছুটি বৃদ্ধির ফলে আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্কট আরো বেড়ে গেছে। সাধারণত প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা হয়।

প্রতি বছর নভেম্বরে এসএসসির শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ হয়ে থাকে। আর ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একই কাজ হয়ে থাকে। ছুটি বাড়ানোর কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এ দুটি কাজ। সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে আগামী বছরের পরীক্ষা দুটিও পিছিয়ে যাওয়ার শ'ঙ্কাও।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, এ সময়ে বোর্ডগুলো পরবর্তী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করে থাকে। নতুন ছুটির বিষয়টি সামনে আসায় আগামী বছরের এ দুটি পরীক্ষা নিয়ে নতুনভাবে পরিকল্পনা করা হবে। এক্ষেত্রে তাদের অসম্পূর্ণ শ্রেণিকাজ, লেখাপড়া, বিভিন্ন পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় আসবে।

তবে পরীক্ষা পেছানো হবে কিনা সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো চিন্তা করা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে চলতি বছরের পিইসি, জেএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে প্রথম থেকে পঞ্চ'ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা। পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষার্থীসহ অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিশেষ মূল্যায়নে নতুন ক্লাসে পদোন্নতির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের গ্রেড দেয়া হবে তাদের জেএসসি ও এসএসসিতে অর্জিত ফলের ভিত্তিতে। এসব শিক্ষার্থীর ফল তৈরির কাজ চলছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে না হওয়ার শ'ঙ্কা আছে। কেননা, দীর্ঘ ছুটির কারণে সংকট তৈরি হয়েছে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে। আরো ৩৫ দিন ছুটি ঘোষণা করায় এসব শিক্ষার্থীর শ্রেণি কার্যক্রমের সময় দাঁড়াল ৯ মাস

একাদশ শ্রেণিতে কলেজ পর্যায়ে নেয়া বিভিন্ন ক্লাস টেস্ট আর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে তাদের ‘অটো পাস’ দেয়া হয়েছে।অ'ভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবীর দুলু বলেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের ভালোর দিকটি বিবেচনা করে ছুটি বাড়িয়েছে। আম'রা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে আম'রা এটাও চাই যে, এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম শেষ করেই যেন পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’

এর আগে বুধবার এক ভা'র্চুয়াল সংবাদ সম্মেললে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, আম'রা এ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ রেখেছি। ১৫ তারিখ থেকে খুলবে কিনা, নাকি এই ছুটিটি আরও বাড়বে নাকি কোনো কোনো ক্লাসের জন্য আম'রা সীমিত আকারে শুরু করতে পারবো- এসব বিষয় নিয়ে এখনও কাজ চলামান। তবে ১৪ তারিখের আগে চেষ্টা করব সিদ্ধান্ত আপনাদের জানিয়ে দিতে। কারণ, ১৪ তারিখের আগে তো আমাদের একটা সিদ্ধান্ত দিতেই হবে।

৮ মা'র্চ দেশে প্রথম করো'না সংক্রমণ ধ'রা পড়ে। করো'নায় প্রথম মৃ'ত্যু হয় ১৮ মা'র্চ। করো'নাভাই'রাসের কারণে গত ১৭ মা'র্চ থেকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

Back to top button