প্রাথমিক সমাপনী-জেএসসি বাতিল করে নতুন যে প্রস্তাব

করো'না ভাই'রাসের চলমান পরিস্থিতিতে চলতি বছরের প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি; জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা না নেয়ার প্রস্তাব জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের স্বারসংক্ষেপ তৈরি করেছে। শীঘ্রই এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

জানা গেছে, জুনিয়র স্তরের এসব পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করা হলেও ক্লাস মূল্যায়নের মাধ্যমে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, চলতি বছর ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ১৩১ কর্ম'দিবস নির্ধারণ করা হলেও করো'না পরিস্থিতির কারণে এ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ দিন বিষয়ভিত্তিক পাঠদান দেয়া সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম গত ১৮ মা'র্চ থেকে বন্ধ আছে।

এ ছুটির মেয়াদ আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে মোট ৭১ কার্যদিবস বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে। পঞ্চ'ম শ্রেণির ৪০৬টি স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হবে না। তবে সংসদ টেলিভিশনে চলমান ‘ঘরে বসে শিখি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু অনেকের শিক্ষার্থীর বাসায় টেলিভিশন না থাকায় এবং টেলিভিশন থাকলেও ক্যাবল সংযোগ না থাকায় সকল শিক্ষার্থীকে এ প্রোগ্রামের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

স্বারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত জ'রিপ অনুযায়ী পঞ্চ'ম শ্রেণির প্রায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশন শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে বা অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। সে বিবেচনায় ১২ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বেতারে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এতে ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী-অ'ভিভাবক মোবাইল ও রেডিওর মাধ্যমে এ সুবিধা নিতে পারছেন। এছাড়াও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকরা যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বলা হয়েছে, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি পাঠ (নেপ) ও বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটির (বেডু) পরিকল্পনা অনুযায়ী পঞ্চ'ম শ্রেণির সমাপনী-ইবতেদায়ি ও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নিতে হলে আরও প্রায় ৫০ কার্যদিবস পাঠদান প্রয়োজন রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যালয়গুলো খোলা না হলে নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ দুই স্তরের অবশিষ্ট পাঠদান সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। এ কারণে ২০২০ সালের এ দুই স্তরের পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করে ক্লাস মূল্যায়নের মাধ্যমে পাস করিয়ে সার্টিফিকেট দেয়ার প্রস্তাব জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘পঞ্চ'ম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষায় সারাদেশে প্রায় ৩২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে থাকে। এর সঙ্গে অ'ভিভাবকরা যু'ক্ত রয়েছেন। করো'না পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন করে শিক্ষার্থী-অ'ভিভাবকদের ঝুঁ'কির মধ্যে ফেলতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বিবেচনায় এনে চলতি বছর সমাপনী-ইবতেদায়ি পরীক্ষা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। আগামী রোববার এটি পাঠানো হতে পারে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘করো'নায় শিক্ষায় ক্ষতিপূরণে বিশেষ করে সামনে কোনো মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে কী' ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবের ভিত্তিতে চলতি বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিলে সারসংক্ষেপ তৈরি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।’

Back to top button