অ'ত্যাচার থেকে বাঁচতে আনুশকা বাবাকে ফোন দিয়েছিলো

‘আমা'র মে'য়ে খুব শান্ত স্বভাবের। স্কুল এবং বাসা ছাড়া তেমন বের হতো না। সে কারো বাসায় এভাবে চলে যাবে এতোটা সাহস তার ছিলো না। দিহান আমা'র মে'য়েকে ট্র্যাপে ফেলে জো'র করে বাসায় নিয়েছে। ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু মিশিয়েছিলো।

ওদের (দিহান ও তার বন্ধুদের) অ'ত্যাচার থেকে বাঁ'চার জন্যই হয়তো সেদিন দুপুরে (১২টা ১৮ মিনিটে) আনুশকা আমাকে কল দিয়েছিলো। ওইদিনের ফোনটা ধরলে হয়তো আমা'র মে'য়ের এমন পরিণতি হতো না; এটাই আমা'র সবচেয়ে বড় ভুল।’

ঘটনার দিনের বর্ণনায় তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, হাসপাতা'লে যাওয়ার পর দিহানের সঙ্গে তার তিন বন্ধু সেখানেই ছিলো, তখন তাদের সবাইকে অস্থির লাগছিলো। এর আগে আনুশকার মোবাইল থেকে আমা'র স্ত্রী'কে ফোন করা হয়। তবে সেটা হাসপাতাল থেকে নাকি ওই বাসা থেকে এটা জানি না। হাসপাতা'লে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা আমাকে বলেন, মা'রা যাওয়ার পর হাসপাতা'লে নিয়ে আসা হয়েছে।

এদিকে আনুশকার মা বলেন, যখন ওর (আনুশকা) মুঠোফোন থেকে সেদিন দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে কল করে তখন দিহান ও তার বন্ধুরা একসঙ্গেই ছিলো। হাসপাতা'লে পৌঁছাতেই আমা'র পা জড়িয়ে ধরে বলেন আন্টি আমাকে বাঁ'চান!দুই পরিবারের স'ম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে নির্যাতিত কি'শোরীর মা বলেন, ঘটনার আগে তিনি দিহান নামের কাউকে চিনতও না। হয়তো এই নামে আনুশকার বন্ধু থাকতে পারে। তবে প্রে'মের কোনো স'ম্পর্ক ছিলো না।

আনুশকার বাসায় সরেজমিনে দেখা যায়, তিন রুমের বাসার পশ্চিম দিকের শেষ ছোট রুমটি নি'র্যাতনের শিকার হয়ে মা'রা যাওয়া মে'য়েটির। রুমে ছোট্ট একটা খাট, পড়ার টেবিল আর একটা কাঠের আলমা'রি। দক্ষিণের জানালাটা অর্ধেক খোলা। বিছানা থেকে একটু নিচেই জায়নামাজ। দুটো কোরআন শরিফ ভাঁজ করা। এখানেই পরিবারের সবাই মিলে নামাজ পড়তো বলে জানান ভিকটিমের বাবা।আনুশকার মা অ'ভিযোগ করে বলেন, হাসপাতা'লে যাওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আমাকে মে'য়ের কাছে যেতে দেয়।

তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমা'র মে'য়ের নিথর দেহটা পড়ে ছিলো। পু'লিশ ময়না ত'দন্তের পর আনুশকার শরীরে কোন আ'ঘাতের চিহ্ন নেই বললেও মে'য়ের ছবি দেখিয়ে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘পিঠে ও পিঠের নিচে অসংখ্য আ'ঘাতের চিহ্ন দেখেছি’।মা'মলায় আ'সামি কেন একজনকে করা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে আনুশকার মা বলেন, পু'লিশ তাকে একজন আ'সামি করার জন্য পরাম'র্শ দেয়। বাকি অ'ভিযু'ক্তদের দোষ প্রমাণ হলে তখন আবার মা'মলা করা যাবে বলেন তিনি। পু'লিশ তাকে আশ্বা'স দিয়ে বলেছিলেন ময়না ত'দন্তের প্রতিবেদন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আ'ট'ক রাখবেন।

তিনি আরো বলেন, আমা'র বাচ্চাকে প্রচণ্ড নি'র্যাতন করা হয়েছে। এ নি'র্যাতন আসলে একজনের পক্ষে করা সম্ভব না। আমাদের মনে হচ্ছে, ঘটনার সঙ্গে চার জন জড়িত ছিলো। আমি আসলে বুঝতে পারিনি মেডিকেল রিপোর্ট কবে আসবে। তখনই তাদের নাম দেয়া উচিত ছিলো। পু'লিশ কেন তাদের এত দ্রুত ছেড়ে দিলো? আরো একটু দেখতে পারতো। আর মা'মলাটাও তাড়াহুড়া করে হয়ে গেলো। চিন্তা করার সুযোগ মেলেনি।

নি'র্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির এক কর্মক'র্তা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, একজনের পক্ষে এভাবে একটা মে'য়েকে নি'র্যাতন করা সম্ভব নয়। এখানে হয়তো অন্যকোন বিষয় জ'ড়িত আছে।মোবাইল উ'দ্ধার স'ম্পর্ক জানতে চাইলে ভিকটিমের বাবা বলেন, পু'লিশ আনুশকার মোবাইলসহ ৪টি মোবাইল উ'দ্ধার করেছে। তবে মোবাইল নিয়ে কোন তথ্য তাদের দেননি বলেও তিনি জানান।

নির্যাতিতার মা অ'ভিযোগ করে আরো বলেন, তার মে'য়ের মোবাইল থেকে ছবি নিয়ে দিহানের ছবির সঙ্গে ফটোশপের মাধ্যমে জোড়া লাগিয়ে সমাজের কাছে তাকে খা'রাপ প্রমাণিত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, পু'লিশের কাছে মোবাইল থাকতে কী'ভাবে এসব ছবি প্রকাশ হচ্ছে?

ভিকটিমের বাবা বলেন, আমা'র মে'য়ের বয়স কী'ভাবে ১৯ হলো আম'রা বুঝলাম না। আম'রা তো শুরু থেকেই বয়স ১৭ বলে আসছি। কিন্তু কে বা কারা ১৯ দিলো বুঝতে পারছি না। বিপদে পড়ে আম'রা পাসপোর্ট, বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরেছি। পু'লিশও যথেষ্ট আন্তরিক ছিলো। তারা ভালো কথাবার্তা বলছেন আমাদের সঙ্গে। সাহায্য করেছেন।

তবে কোনো একটা জায়গায় তারা এই ভুলটা করেছেন। যার জন্য এটা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। ভুল তথ্য দিয়ে মে'য়েটাকে প্রাপ্ত বয়স্ক বানানোর চেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দিহানের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। দিহানের বড় ভাইও নাকি তার স্ত্রী'কে মে'রে ফেলেছিলো। আমা'র মে'য়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে; আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। তাদের শা'স্তি চাই।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভিকটিমের একজন বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আনুশকা এবং আমি খুব ছোটবেলা থেকেই ফ্রেন্ড (বন্ধু)। ঘটনার আগেরদিন তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিলো। দিহানের সঙ্গে প্রে'মের স'ম্পর্কে তিনি বলেন, আনুশকা জানিয়েছিলো এক মাস ধরে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়। প্রে'মের স'ম্পর্ক ওইভাবে ছিলো না। তবে ঘটনার আগে দেখা হয়েছে কিনা সে জানে না বলে জানান।

আনুশকার বাবারদা’বি, সন্তানকে সে অনেক যত্ন করে বড় করেছেন। এই মা'মলার সত্যি প্রতিবেদন যাই আসুক সে মেনে নিবে। তবে কোন অসঙ্গতি হলে তিনি সেই রায় মেনে নেবে না।প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বন্ধু দিহানের মোবাইল কল পেয়ে বাসা থেকে বের হন রাজধানীর ধানমণ্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিন।

এরপর আনুশকাকে কলাবাগানের ডলফিন গলির নিজের বাসায় নিয়ে যান দিহান। ফাঁকা বাসায় জো'র পূর্বকশা’রীরিক স'ম্পর্কের একপর্যায়ে মে'য়েটি অ'সুস্থ হয়ে পড়লে দিহানসহ চার বন্ধু তাকে ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতা'লে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ'ত ঘোষণা করেন। ধ'র্ষণের পর অ'তিরিক্ত র'ক্তক্ষরণে তার মৃ'ত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

গত ৭ জানুয়ারি দিনগত রাতে নি'হত ছা'ত্রীর বাবা বাদী হয়ে মা'মলা'টি দায়ের করেন। মা'মলায় তার বি'রুদ্ধে নারী ও শি'শু নি'র্যাতন দমন আইনের ৯-এর ২ ধারায় ধ'র্ষণের পর হ'ত্যার অ'ভিযোগ আনা হয়। মা'মলার একমাত্র আ'সামিকে সেদিন রাতেই গ্রে'প্তার করা হয়।

পরদিন তাকে আ'দালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব'ন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মা'মলার ত'দন্তকারী কর্মক'র্তা। সে অনুযায়ী আ'সামি দিহান ঘটনার সঙ্গে জ'ড়িত থাকার কথা স্বীকার করে একই আ'দালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানব'ন্দি দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

Back to top button