দ্বিতীয় ধা’ক্কায় ল’ন্ডভ’ন্ড হবে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশে গত ৭ দিন ধরে করো'না প্র’কোপ বেরেই চলেছে। মৃ'ত্যুর হার মাঝখানে কমে গেলেও এখন আবার মৃ'ত্যুর সংখা বাড়ছে। প্রতিনিদিনই দুই হাজারের বেশি মানুষ আ'ক্রান্ত হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশে পরিক্ষা হচ্ছে অনেক কম।

গত ৮ মা'র্চ থেকে বাংলাদেশে করো'না সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে সাড়ে চার লাখের বেশি করো'না রোগী আ'ক্রান্ত হয়েছেন, মা'রা গেছে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মানুষ। কিন্তু তারপরেও এই বিপুল জনগোষ্ঠির এই দেশে করো'না ভ’য়াভ’হ হয়ে উঠতে পারেনি। কারণ আ'ক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ছিল বেশি। মৃ'ত্যুর সংখ্যা অন্যান্য দেশের থেকে অনেক কম।

আর সে কারণেই বাংলাদেশ করো'নাকে ভ’য় না পেয়ে জীবন-জীবিকাকে এগিয়ে নেয়া এবং অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার দিকেই মনোযোগ দিয়েছিল। দেশে এখন করো'নার যে দ্বিতীয় ধা’ক্কা শুরু হয়েছে এই দ্বিতীয় ধা’ক্কায় যে পরিকল্পনা তা ল’ন্ডভ’ন্ড হয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয় ধা’ক্কায় করো'নার ছোবল ভ’য়াভ’হ হতে পারে এবং সংক’টে পড়তে পারে বাংলাদেশ এমন আ’শং’ঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয় ধা’ক্কায় বাংলাদেশ যে ৫টি কারণে সং’ক’টে পড়েত পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে তার মধ্যে রয়েছে:-

১। জনস্বাস্থ্য: বাংলাদেশে করো'নার প্রথম প্রকোপের সময় প্রথম দিকে মানুষ হাসপাতাল মুখী হলেও পরে আস্তে আস্তে বাড়িতেই চিকিৎসায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। যেহেতু বাংলাদেশে করো'নায় যে উপসর্গগুলো সে উপসর্গগুলো ছিল মৃদু তাই বাসায় চিকিৎসা নিয়েই অধিকাংশ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকোপের সময় দেখা যাচ্ছে যে, আ'ক্রান্তরা মৃদু উপসর্গ নয় বরং কঠিন উপসর্গ নিয়েই আ'ক্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের হাসপাতা'লে নিতে হচ্ছে।

কিন্তু গত মা'র্চ থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোন রকমের হাসপাতা'লের সংখ্যা বাড়েনি, আইসিউ বেডের সংখ্যা বাড়েনি, অক্সিজেন ফ্লো সব হাসপাতা'লে নিশ্চিত করা যায়নি। বরং করো'না কমে যাবার পর হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, সীমিত করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মা'র্চে বাংলাদেশে করো'না সংক্রমন শুরু থেকে যে অবস্থায় ছিল এখন আবার সেই অবস্থায় চলে এসেছে।এএরকম অবস্থায় করো'নার দ্বিতীয় ঢেউ এলে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটা বড় হু’মকি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

২। রপ্তানী আয়ে হোঁ’চট: ইতমধ্যে বিজিইএমই বলেছে, তাদের ৩০ শতাংশ রপ্তানী অর্ডার কমে গেছে। সামনের দিনগুলাতে রপ্তানী অর্ডার আরো কমবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এই শীত কালেই গ্রীস্মকালের অর্ডার গুলোর কাজ শুরু করে গার্মেন্টর্সগুলো। কিন্তু গ্রীস্মকালের অর্ডারও আসছে না। বিশ্ব অর্থনৈতিক ম’ন্দার কারণে এবার গার্মেন্টের্সের অর্ডার অনেক কমে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। অন্যান্য রপ্তানীর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ধা’জ্ঞা লাগার আশ’ঙ্কা করছে মানুষ।

৩। জীবিকা: প্রথম দফায় করো'না সংক্রমনের পর অনেকেই কাজ হারিয়েছিলেন এবং তারা টুকটাক বিভিন্ন ভাবে ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ছিলেন। এর পরে যদি আবার দ্বিতীয় ধা’জ্ঞাটি আসে এর ফলে ব্যবসা বানিজ্য সংকুচিত হবে এবং বিভিন্ন জায়গায় চাকুরি ছাটাইয়ের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকবে। এরফলে মানুষের জীবিকা বড় ধরনের সংকটে পড়বে। প্রথম দফায় যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল সেই প্রণোদনার ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পকে স্প'র্শ করতে পারেনি। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর অবস্থা এমনিতেই নাজুক। ফলে এখন দ্বিতীয় ধা’জ্ঞার ফলে এই শিল্প-কারখানাগুলো টিকে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

৪। অ'ভিবাসি: বাংলাদেশে করো'না সংক্রমণের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ অ'ভিবাসি আছে যারা আর বিদেশে যেতে পারছে না। ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের অ'ভিবাসিরা ফেরত যেতে পারছে না। এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে দ্বিতীয় ধা’জ্ঞায় অ'ভিবাসিরা বাংলাদেশে ফেরত আসতে পারে এবং সেটি আমাদের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধরনের আ’ঘাত হতে পারে।

৫। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশে অর্থনীতির খা'রাপ অবস্থা হওয়ার কারণে এবার মানুষের আযকর রিটার্ণ এবং ভ্যাট দেয়ায় অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় করো'নার প্রকোপ বাড়লে অর্থনৈতিক সং’ক’টে থাকা মানুষ আয় কর দেয়ার ক্ষেত্রে নে’তিবা’চক মনোভাব দেখাবে। সেটিও আমাদের সামগ্রীক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আর এর কারণিই মনে করছে যে প্রথম ধা’জ্ঞায় বাংলাদেশ সফল ভাবে মো’কা’বেলা করতে পারলেও দ্বিতীয় ধা’জ্ঞায় বাংলাদেশ বড় ধরনের ঝুঁ’কির মধ্যে পড়তে পারে।

Back to top button