করো'না বিস্তারে দায়ী কে?

শীতের সঙ্গে করো'নার স'ম্পর্ক রয়েছে, এমন কোন বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু ঠাণ্ডার সঙ্গে এই ভাই'রাসের অন্য গোত্রগুলোর (সর্দি ও কাশি) স'ম্পর্ক রয়েছে। তবে করো'নার বিস্তারে ঠাণ্ডা বেশি দায়ী নাকি মানুষের আচরণ- এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো দ্বিমত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছে, একেক দেশে করো'নার একেক রকম আচরণ দেখা যাচ্ছে। তাই শুধু আবহাওয়া নয়, সেখানকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা ও জনসাধারণের সচেতনতার বিষয়টিও কাজ করে। এদিকে শীতে দেশে ভাই'রাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশ'ঙ্কা করছে সরকার। এজন্য নানা প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। আর গত কিছুদিন ধরে মৃ'ত্যুর সংখ্যা ও নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতেও দেখা গেছে।

দেশে প্রা'ণঘাতী করো'নাভাই'রাসে আ'ক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৮৭ জনের মৃ'ত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করো'নায় আ'ক্রান্ত হয়ে ৩৯ জন মা'রা গেছে। একই সঙ্গে এই ভাই'রাসে দুই হাজার ১৫৬ জন আ'ক্রান্ত হয়েছে। এই নিয়ে মোট আ'ক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ৫৪ হাজার ১৪৬ জনে পৌঁছাল। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শীতকালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আরো খা'রাপ হতে পারে। এই মুহূর্ত থেকেই তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ রওশন আরা খানম বলেন, করো'না প্রকোপ কমে আসার পর এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু ঠাণ্ডার সঙ্গে ভাই'রাসের বাড়া-কমা'র কোন স'ম্পর্ক আছে, সেটা আম'রা এখনো পাইনি। অন্যদিকে শীত শুরু হতেই করো'নায় দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এই দ্বিতীয় ধাক্কায় লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। তবে এটি দ্বিতীয় ঢেউ কিনা তা এখনই বলতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর দেশে করো'নায় আ'ক্রান্ত হয়ে ৩২ জনের মৃ'ত্যু হয়। এসময় নতুন রোগী শনাক্ত হয় দুই হাজার ২৩০ জন, ২৩ নভেম্বর দেশে এই ভাই'রাসে আ'ক্রান্ত হয়ে ২৮ জনের মৃ'ত্যু হয়েছে। আর ২ হাজার ৪১৯ জন করো'নাভাই'রাসে আ'ক্রান্ত হয়েছে, ২২ নভেম্বর দেশে করো'নায় আ'ক্রান্ত হয়ে ৩৮ জনের মৃ'ত্যু হয়। এই দিন ২ হাজার ৬০ জন ভাই'রাসটিতে আ'ক্রান্ত হয়ে, ২১ নভেম্বর দেশে করো'নাভাই'রাসে আ'ক্রান্ত হয়ে ২৮ জনের মৃ'ত্যু হয়েছে।

এসময়ে ১ হাজার ৮৪৭ জন করো'নায় আ'ক্রান্ত হয়, ২০ নভেম্বর ভাই'রাসটিতে মৃ'ত্যু হয়েছে ১৭ জনের। আর এই সময়ে করো'না শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৭৫ জন, ১৯ নভেম্বর করো'নায় ৩০ জনের মৃ'ত্যু হয়। নতুন করে এই সময়ে ২ হাজার ৩৬৪ জনের শরীরে করো'নাভাই'রাস শনাক্ত হয়, ১৮ নভেম্বর দেশে ২ হাজার ১১১ জনের মধ্যে করো'নার সংক্রমণ ধ'রা পড়ে এবং মৃ'ত্যু হয় ২১ জনের এবং ১৭ নভেম্বর ভাই'রাসটিতে ৩৯ জনের মৃ'ত্যু হয়। একই সময়ে ২ হাজার ২১২ জনের শরীরে নতুন করো'নাভাই'রাসের সংক্রমণ ধ'রা পড়ে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন বলেন, এটা দ্বিতীয় ঢেউ কিনা তা এখনো বলতে পারব না। কারণ দেশে প্রথম দফার সংক্রমণ শেষ হয়নি। আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে শীতপ্রধান দেশগুলোতে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ মা'রাত্মক আকার ধারণ করেছে।

কিন্তু বাংলাদেশে সেভাবে শীত পড়ছে না এবং তাপমাত্রা মাইনাস ৫ থেকে ৬ ডিগ্রির নিচেও নামে না। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে এখনই বলা যাবে না।প্রসঙ্গত, গত ৮ মা'র্চ দেশে করো'নাভাই'রাসের প্রথম সংক্রমণ ধ'রা পড়েছিল। এর ১০ দিন পর ১৮ মা'র্চ দেশে প্রথম মৃ'ত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

Back to top button