ঢাকায় যেসব কারনে দিন দিন বেড়েই চলেছে পুরুষ পতিতার সংখ্যা

মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে কৃষি নির্ভর অর্থনীতির পর পেশাজীবি সম্প্রদায়ের প্রসার ঘ’টতে থাকে। পৃথিবীতে হরেক রকমের পেশা রয়েছে।যার মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন পেশা, যা এখনও টিকে আছে, তার মধ্যে রয়েছে- ভাড়াটে সৈনিক এবং পতিতাবৃত্তি।

পতিতাবৃত্তি বলতে আমা’দের চোখে সব সময়ই না’রী অবয়ব ভেসে ওঠে। কিন্তু সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এ ধারণাটাও বদলে গেছে। পুরুষ প’তিতাবৃত্তি বিষয়টা এখন খুবই সাধারণ। প্রাচীন প্যাগানদের ইতিহাসেও এই পুরুষ প’তিতাবৃত্তির দেখা মেলে, সেই সাথে হিব্রু বাইবেলেও এর স'ম্পর্কে বর্ণিত আছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এটা প্রচলিত আছে। আমা’দের দেশেও এ স'ম্পর্কে নিয়মিত বিভিন্ন তথ্য উঠে আসছে। তবে প্রচলিত ধারার বাইরে ভিন্ন অবয়বে এ পেশাজীবিরা বাণিজ্য চালিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। ঢাকায় পুরুষ প’তিতাবৃত্তির ইতিবৃত্ত: গাড়ির গ্লাস নামিয়ে ‘হ্যালো স্মা'র্টবয়’ বলেই যুবককে ডাকলেন এক মধ্য বয়সী নারী।

মৃদু হেসে যুবক এগিয়ে যান। তারপর আস্তে আস্তে কথা হয় তাদের। যুবক গাড়িতে উঠেতেই গাড়িটি বনানীর দিকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই গুলশান-২ এর মোড়ে ঘ’টে ঘ’টনাটি।একটি জিমনেশিয়াম থেকে বের হয়ে গুলশানের ওই মোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন যুবক। তার পরনে কালো প্যান্ট, কালো গেঞ্জি, কাঁধে ছোট একটি ব্যাগ। তার শরীর থেকে ভেসে আসছিল পারফিউমের ঘ্রাণ। বারকয়েক কথা বলেছেন মোবাইলফোনে। সময় তখন রাত ৮টা প্রায়।

দেখেই মনে হয়েছিল নির্ধারিত কারো জন্য অ'পেক্ষা করছিলেন তিনি। অল্প সময়েই মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া গেলো নির্ধারিত সেই জন হচ্ছেন ওই মধ্য বয়সী না’রী। নওই যুবককে অনুসরণ করে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সুঠাম'দেহী এই যুবক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পাশাপাশি তিনি একজন যৌ’নকর্মী।

যদিও এ জগতে মেল এস্কর্ট, এস্কর্ট বয় বা রেন্টাল বয় হিসেবে পরিচিত তিনি। ঢাকায় এরকম কয়েক শ’ মেল এস্কর্ট রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন রিদওয়ান সামি। এটা তার প্রকৃত নাম না হলেও এই নামেই এ জগতে পরিচিতি তার। পরিচয় গো’পন করে কথা বললেও সরাসরি দেখা করতে চাননি তিনি। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুটা আজ থেকে দু’বছর আগে। তখন তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

লেখাপড়ার পাশপাশি ফরেনারদের গাইড হিসেবে কাজ করতেন। ধারণাটি আসে আ'মেরিকান এক না’রীর মাধ্যমে। পথশি’শুদের নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি করতে ঢাকায় এসেছিলেন ওই না’রী। গুলশানের একটি হোটেলে ছিলেন। ওই না’রীর গাইড হিসেবে কাজ করার দ্বিতীয় দিনই তাকে বিছানায় সঙ্গ দিতে প্রস্তাব দেন।

বিনিময়ে তাকে পে করা হবে। তখন আ'মেরিকান ওই না’রীর প্রস্তাবে রাজি হয়ে বেশ কিছু বাড়তি টাকা আয় করেছিলেন রিদওয়ান। ওই না’রী তাকে পরাম'র্শ দেন মেল এস্কর্ট হিসেবে কাজ করলে ভালো আর্ন করবেন তিনি। তারপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন রিদওয়ান। এ প্রসঙ্গে রিদওয়ান বলেন, শুরুতে ভেবেছি এদেশে এটা মানুষ সহ'জে গ্রহণ করবে না। তবে এদেশে বিভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। একটা শ্রেণি রয়েছে যাদের লা’ইফ স্টাইল ফরেনারদের মতোই।

তারা অন্তত সাদরে গ্রহণ করবে। আর্নও হবে। তবে ওই শ্রেণির কাছে তা প্রচার করতে হবে। এই ভাবনা থেকেই তৈরি করেন একটি ওয়েব সাইট। পরবর্তীকালে খোঁ’জ পান ম্যাসেঞ্জার পাবলিক ডট'কমের। সেখানে অনেক মেল এস্কর্ট রয়েছে রিদওয়ানের মতোই। অ্যাকাউন্ট ওপেন করেন সেখানে। ওই সাইটে গিয়ে দেখা গেছে এতে তার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

যা দেখলে সহ'জেই তার স'ম্পর্কে অনুমান করা যায়। বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ তিনি। তার উচ্চতা ৫ফুট ১০ ইঞ্চি, বয়স ২৮। এতে তিনি ইংরেজিতে যা লিখেছেন তার বাংলা হচ্ছে, ‘আমি আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি আমা’র সঙ্গে …। আমা’র হট ও উত্তে'জনাপূর্ণ অ'ভিজ্ঞতা অনুসারে প্রকৃত তৃপ্তি দেব।

আমি নিরাপদ স'ম্পর্ক করব। আমি স্বাস্থ্য সম্মত ও রো’গমু’ক্ত। আমি খুব পরিষ্কার এবং আপনার কাছেও তা আশা করি।’ শুধু প্রকৃত ক্লায়েন্ট'কে যোগাযোগ করতে অ’নুরোধ করে ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দেয়া আছে এতে। যোগাযোগ করে জানা গেছে, প্রতি মাসেই অ’পরিচিত পাঁচ-ছয়জন না’রী ক্লায়েন্টের কল পান তিনি।

বিশ্বা'সযোগ্য হলেই সাড়া দেন। এছাড়া নিয়মিত কিছু ক্লায়েন্ট রয়েছে তার। একইভাবে এরকম একই সাইটে নিজের শুধু দুটি চোখের ছবি দিয়ে এস্কর্ট বয় হিসেবে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন সুমন আহমেদ নামে এক যুবক। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমি আগ্রহী বলেই এখানে তথ্য দিচ্ছি, আপনি আগ্রহী হলে দ্বি’ধা ছাড়াই আমাকে কল দিতে পারেন।’

একইভাবে ওবাইস নামে এক যুবক লিখেছেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট ও বিশ্বা'সযোগ্য। আপনার বাড়িতে বা অন্য কোথাও নি’রাপদে।’ এতে শুধু না’রীদের যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। লিঙ্কন নামে এক এস্কর্ট বয় জানান, তাদের ক্লায়েন্ট মূলত অ'ভিজাত শ্রেণির ও ফরেনার কিছু না’রী। দেশি অ'ভিজাত না’রীদের অনেকের স্বামী নেই। ডিভোর্সি অথবা বিধবা। নিঃসঙ্গ বোধ করেন। তারা মেল এস্কর্ট খোঁ’জেন। গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও ধানমন্ডি এলাকায় এরকম অনেক ক্লায়েন্ট রয়েছে বলে জানান তারা। অনেক না’রী শুধু শরীর ম্যাসাজ করার জন্য এস্কর্ট বয়দের ডাকেন।

এসব কাজে ঘণ্টা হিসেবে টাকা নেন মেল এস্কর্টরা। প্রতি ঘন্টায় ১২ থেকে ৩০ ডলার হিসেবে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা নেন তারা। না’রীরা সাধারণত সুঠাম'দেহী, শ্যামলা, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ছে'লেদের বেশি পছন্দ করেন। এজন্য মেল এস্কর্টরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন।

সুস্থ ও শক্তিশালী থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার খান। জেন্টস পার্লারে যান নিয়মিত। তবে মেল এস্কর্টদের কেউ কেউ প্র’তারণাও করেন না’রীদের সঙ্গে। ইতিমধ্যে তাদের একজনকে গ্রে’প্তার করেছে আ’ইন শৃঙ্খলা বা’হিনী। তার নাম ফুয়াদ বিন সুলতান। গত ১লা আগস্ট তাকে উত্তরার একটি বাড়ি থেকে গ্রে’প্তার করা হয়। র‌্যা'­ব জানিয়েছে, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সে প'র্নোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করে। তার সঙ্গে অন্তত দেড় শতাধিক না’রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও পাওয়া গেছে।

নিজেকে সুলতান অব সে’ক্স দা’বি করে সে দা’বি করেছে, না’রীরা তার কাছে স্বেচ্ছায় আসতেন। তবে র‌্যা'­ব দা’বি করেছে,শা’রীরিক স'ম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে না’রীদের ব্ল্যাকমেইল করতো সুলতান। ফুয়াদ বিন সুলতান সাবেক এক উচ্চ পদস্থ পু’লিশ কর্মক’র্তার সন্তান। এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী বলেন, এটি সমাজের চরম অবক্ষয়। সমাজে আ’ইন রয়েছে। ধ’র্ম রয়েছে। যেখানে নিয়ম-নীতির মধ্য দিয়ে জীবন পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলার জন্যই এসব নিয়ম।শা’রীরিক চাহিদার জন্য বৈধ পথেই হাঁটতে হবে।

নতুবা এই সভ্যতা অ’ন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। পরিবার প্রথা, স্বামী-স্ত্রী'র ভালোবাসা বিলীন হলে নানা অসঙ্গতি সৃ’ষ্টি হবে। বাইরের দেশের অ’পসংস্কৃতি কোনোভাবেই অনুসরণ করা যাবে না।এজন্য সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশপাশি আ’ইনশৃঙ্খলা বা’হিনীকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অ’নুরোধ জানান তিনি।

Back to top button