দেশে আসছে আ'মেরিকার লোকোমোটিভ, চলবে ১৩০ কিলোমিটার বেগে

৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার আওতায় গত কয়েক বছরে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়েতে। প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।

দেশব্যাপী শুধু রেলের আধুনিকায়নই হবে না, চলবে দ্রুতগতির ট্রেন।দেশের রেলখাতকে আরো গতিশীল করতে যু'ক্তরাষ্ট্রের রেলওয়ে রোলিংস্ট'ক নির্মাতা প্রগ্রেস রেল লোকোমোটিভ ইনকর্পোরেশনের কাছ থেকে ৪০টি দ্রুতগতির ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) কিনেছে বাংলাদেশ। গত বছরের ১৪ জানুয়ারি ইঞ্জিনগুলো কেনার জন্য প্রগ্রেস রেলের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব ইঞ্জিন বাংলাদেশে সরবরাহ করবে এ কোম্পানি।এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রতিটি ইঞ্জিনের দাম ২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ হিসেবে ৪০টি ইঞ্জিনের দাম ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা বা ১৩৫ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার। আগামী বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশে ইঞ্জিনগুলো সরবরাহ করতে শুরু করবে প্রগ্রেস রেল লোকোমোটিভ ইনকর্পোরেশন।

জানা গেছে, প্রথম ধাপে ৫টি ইঞ্জিন সরবরাহ করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এসব দ্রুতগতির ব্রডগেজ ইঞ্জিন দেশে আনার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ৩ হাজার ২৫০ বিএইচপি হর্সপাওয়ারের এসব ইঞ্জিন ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। প্রতিটি ইঞ্জিনের এক্সেল লোড ১৮ দশমিক ৮ টন। মাইক্রোপ্রসেসর কন্ট্রোল সিস্টেমের এসব ইঞ্জিন এসি-এসি পাওয়ার ট্রান্সমিশনে চলবে।

চলতি বছরের শুরুতে রেলমন্ত্রী নূরুল ইস'লাম সুজন ও প্রতিনিধি দল লোকোমোটিভ তৈরির কারখানাসহ ক্রয় প্রক্রিয়ায় থাকা ইঞ্জিনগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি ও সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. শামসুজ্জামান, এডিজি (অ'পারেশন) মিয়া জাহান ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব আতিকুর রহমান।এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মো.

নূরুল ইস'লাম সুজন ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, রেলওয়েকে যুগোপযোগী উন্নয়নে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। মানুষকে রেলের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়ার জন্য সর্বোত্তম চেষ্টা করা হবে। এসব দ্রুতগতির ইঞ্জিন দেশের রেল বহরে যু'ক্ত হলে অধিক পরিমাণে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে বেশি রাজস্ব আদায় করা যাবে।

ইঞ্জিন সংকট ও নতুন করে কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েকে যুগোপযোগী, আধুনিক ও সাধারণ মানুষের আস্থার বাহন হিসেবে গড়ে তুলতে ইঞ্জিন বাড়ানোর জন্য গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করছি, রেলের ইঞ্জিন সংকটের সমাধান করা যাবে।

পাশাপাশি রেলওয়ে যেন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরো অবদান রাখতে পারে, সেদিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মক'র্তা শরিফুল আলম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, রেলের উন্নয়নে এখন ৪৮টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি প্রকল্প রেললাইন স্থাপন, সংস্কার, নতুন লাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত। বাকি পাঁচ প্রকল্পে ইঞ্জিন কেনাসহ অন্যান্য উন্নয়নকাজ অন্তর্ভুক্ত। এর একটি হলো ৪০টি ব্রডগেজ ডিজে'ল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ক্রয়।

Back to top button