যুবলীগ নেতার লাথিতে আশ'ঙ্কায় অন্তঃসত্ত্বা নারী

রাজধানীর পল্লবীতে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মা'রার অ'ভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বি'রুদ্ধে। আরও জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী ওই নেতার বি'রুদ্ধে থা'নায় মা'মলা করতে গেলে গভীর রাত পর্যন্ত তাকে বসিয়ে রেখেও শেষ পর্যন্ত মা'মলা নেয়নি পু'লিশ। অন্যদিকে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর অবস্থা আশ'ঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। ভুক্তভোগীর নাম মায়া বেগম। আর অ'ভিযু'ক্তের নাম মো. রওশন আলী। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি।

সোমবার (৩০ মা'র্চ) সকালে পল্লবীর সেকশন ১২, ই-ব্লকের ৬ নম্বর সড়কের ৮৯ নম্বর হোল্ডিংয়ে এ ঘটনা ঘটে, যা লিটনের বাসা হিসেবে পরিচিত। পেটে লাথি মা'রার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতা'লে মায়াকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান তার স্বামী মো. মিলন মিয়া। সন্ধ্যায় তারা বাসায় ফেরেন। এর পর মিলন মিয়া রাত আটটার দিকে পল্লবী থা'নায় মা'মলা করতে যান। তাকে থা'নায় বসিয়ে রাখা হয় দীর্ঘ সময়। মধ্যরাত পর্যন্ত অ'পেক্ষা করার পরও পু'লিশ তার মা'মলা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাসায় ফিরে যান। গত মঙ্গলবার এসব কথা জানান মিলন। স্ত্রী'র অবস্থা আশ'ঙ্কাজনক, উদ্বেগের সঙ্গে বলেন তিনি। মা'মলা গ্রহণ না করার বিষয়ে গতকাল বুধবার বিকালে যোগাযোগ করা হলে পল্লবী থা'নার ভা'রপ্রাপ্ত কর্মক'র্তা (ওসি) নজরুল ইস'লাম আমাদের সময়কে বলেন, মা'রামা'রির ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই দম্পতিকে উ'দ্ধার করা হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের থা'নায় আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা আসেননি। অন্তঃসত্ত্বার স্বামী মা'মলা করতে থা'নায় এসেও ফেরত গেছেন- এমন অ'ভিযোগ সত্যি নয়, দাবি করেন ওসি। মিলনকে মা'রধর ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী'র পেটে লাথি মা'রার অ'ভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে মো. রওশন আলী বলেন, ‘একটু মা'রামা'রি হইছিল। ওইটা সমাধান হয়ে গেছে।’

পেশায় রাজমিস্ত্রি মিলন জানান, সপরিবারে তিনি শুকুর আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সোমবার সকালে বাসার অদূরেই লিটনের বাসায় পানির ট্যাংকের ঢালাই কাজে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লিটনের পরিচিত যুবলীগ নেতা রওশন আলী ঢালাই কাজ ভালো হচ্ছে না জানিয়ে তিরস্কার করতে থাকেন। একপর্যায়ে মিলনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে শুরু করেন। এ সময় মা-বোন তুলে গালাগাল দিতে নিষেধ করেন মিলন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যান রওশন। তিনি মিলনকে মাটিতে ফেলে মা'রধর করতে থাকেন। প্রতিবেশীদের কাছে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান মায়া বেগম তার স্বামীকে বাঁ'চাতে। তখন তাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন রওশন। একপর্যায়ে মায়ার গায়েও হাত তোলেন। এ সময় মায়া ডা'কাডাকি শুরু করলে রওশন আলী তার তলপেটে সজো'রে লাথি মা'রেন। সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েন মায়া; অ'জ্ঞান হয়ে যান।

প্রতিবেশীরা তখন জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পু'লিশ এসে উ'দ্ধার করে আ'হত দম্পতিকে। এর পর মায়াকে নিয়ে তারা যান ঢামেক হাসপাতা'লে। মিলন জানান, প্রথমে পু'লিশ মা'মলা নিতে চাইলেও কোনো একজন ব্যক্তির একটি ফোন আসার পর শুরু হয় তাদের গড়িমসি। অ'পেক্ষারত সময়ে এক পু'লিশ সদস্য মিলনকে বলেন, তিনিই ঘটনার বিচার করে দেবেন। এ নিয়ে যেন বেশি বাড়াবাড়ি করা না হয়। কিন্তু তার প্রস্তাবে সাড়া দেননি মিলন। তবু তার মা'মলা নেওয়া হয়নি।

Back to top button