অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় তৈরি হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

করো'নাভাই'রাসের কারণে বিশ্বজুড়ে আসন্ন ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় তৈরি হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ খাদ্য উৎপাদনসহ সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জো'র দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী করো'নাভাই'রাস প্রতিরোধে মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জে'লা প্রশাসকসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মক'র্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, ‘এখন যেটা হচ্ছে আম'রা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এরপরে কিন্তু আরেকটা ধাক্কা আমাদের আসবে। সেটা হচ্ছে, সারা বিশ্ব কিন্তু স্থবির হয়ে আছে। অর্থনৈতিক কর্মকা'ণ্ড স্থবির হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে বিরাট আকারে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। সেই মন্দা মোকাবেলার চিন্তাভাবনা এখন থেকেই আমাদের করতে হবে, পরিকল্পনা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারও এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদী না থাকে, কোনো জলা'শয় যেন পড়ে না থাকে। এটা অব্যাহত রাখতে পারলে দেশের চাহিদা তো আম'রা মেটাতে পারবই, অন্য দেশকেও প্রয়োজন হলে আম'রা সাহায্য করতে পারব। আল্লাহর রহমতে সেই ক্ষমতা আম'রা অর্জন করতে পারি, সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।’

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যার যেখানে এতটুকু জমি আছে- ঘরের কোনে হলেও, যা পারেন, যেটা পারেন একটা কিছু ফসল ফলান; তরিতরকারি করেন,‌ ফলমূল করেন বা হাঁস- মুরগি বা খামা'র করেন । অর্থাৎ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা উৎপাদন দরকার আমাদের এখন থেকে উদ্যোগ নিতে হবে ‘

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফসল ফলানোর জন্য যা যা উপকরণ দরকার হয়, অনুরোধ করব, সেই উপকরণগুলো যাতে সরবরাহ হয়। সেটা যেন যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়। সেই উদ্যোগটা নিলে আমি মনে করি, আম'রা বিশ্বমন্দা কাটিয়ে উঠতে পারব- এটা আমাদের খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ছুটিতে কাজ হা'রানো নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের ঘরে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনাও দেন।

করো'নাভাই'রাস সংক্রমণের প্রেক্ষিতে কাউকে খাদ্য সহায়তা করতে গিয়ে লোকসমাগম যাতে না হয় তা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শ্রমজীবি মানুষের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেকে যেন এ সহযোগিতাটা পায়। সেই বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। এই দায়িত্ব সকলকেই পালন করতে হবে। এ দায়িত্ব যারা বিত্তশালী আছেন তাদেরকে যেমন পালন করতে হবে, আমাদের প্রশাসনে যারা তাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা তাদেরও দায়িত্ব এটা, সকলেরই দায়িত্ব।

দারিদ্রদের খাদ্যসহ সহযোগিতা দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম অনিয়ম-দু'র্নীতি হলে ছাড় দেয়া হবে না হুঁশিয়ার করে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে কেউ অর্থশালী, সম্পদশালী হয়ে যাবে সেটা কিন্তু আম'রা কখনও বরদাস্ত করব না। করো'নাভাই'রাসের এ দু'র্যোগপূর্ণ সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মাঠের সর্বস্তরের কর্মক'র্তাদের কাজ করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যটা যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে, সাধারণ মানুষের আওতার মধ্যে থাকে। সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে মুনাফা নেওয়া এটা আসলে অমানবিক হবে।’

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্মক'র্তাদের সচেতন থাকার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, এ দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন কোনো রকম অ'পকর্ম না করতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

বিশ্বের শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়া করো'নাভাই'রাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশবাসীকে ভীত না হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যে কোনো দু'র্যোগ আসলে আমি মনে করি এটা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে এবং সে জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এখানে ভীত হওয়ার কিছু নেই। মনের জো'র থাকতে হবে। এ রকম অনেক দু'র্যোগ আম'রা মোকাবেলা করেছি। ইনশাল্লাহ এটাও আম'রা মোকাবেলা করে যাচ্ছি এবং আগামীতেও যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সমস্ত নির্দেশনা দিয়েছে সেই নির্দেশনা যখন আম'রা পেয়েছি তার অনেক আগে থেকেই আম'রা কিন্তু তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। আম'রা কিন্তু মানুষকে সুরক্ষিত রাখার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। যার ফলে আজকে এত ব্যাপক হারে এখনো এর প্রাদুর্ভাব ছড়াতে পারেনি। কিন্তু ভবিষ্যতে যাতে না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।”

করো'নাভাই'রাসের লক্ষণ দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার পরাম'র্শ দিয়ে দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “লুকাতে গিয়ে নিজের সর্বনাশ করবেন না, পরিবারের সর্বনাশ করবেন না।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যারা গুজব ছড়ায় তাদের বি'রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়েও ফেইসবুক বা বিভিন্ন অ্যাপসে নানা ধরনের গুজব অনবরত ছড়ানো হয়ে থাকে। নানা ধরনের কথা অনেকে বলে থাকেন। আবার দেখলাম দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ বলে।

জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি এটুকু বলব, গুজব রটানো থেকে সবাই বিরত থাকুন। গুজব শুনবেন না, গুজবে কান দেবেন, গুজব নিয়ে কেউ বিচলিত হবেন না- এটাই আমা'র অনুরোধ সবার কাছে।”

ভিডিও কনফারেন্সে সচিবালয় প্রান্ত থেকে কৃষিমন্ত্রী ছাড়াও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইস'লাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান যু'ক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহম'দ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইস'লামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবরাও সচিবালয় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যু'ক্ত ছিলেন।

গণভবনে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এবং পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জে'ল হোসেন ।

এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইস'লাম ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সংযু'ক্ত ছিলেন।

Back to top button