‘ইটালিতে পড়তে এসে আম'রা আ'ট'কে পড়েছি, দয়া করে আমাদের বাঁ'চান’

আমি কলকাতার দক্ষিণেশ্বরের ছেলে। ইটালির ফ্লোরেন্সে পিএইচডি করছি। দেশে ফেরার জন্য গত ১১ মা'র্চ এয়ার ইন্ডিয়ার একটা টিকিট কে'টেছিলাম। কিন্তু, রোম থেকে আমাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। কারণ, আমা'র কাছে ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট ছিল না। শুধু আমি নই, অন্য অনেক ভারতীয়কেই বিমানে উঠতে দেননি কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দরে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অ'পেক্ষা করতে হয়েছিল আমাদের। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে আমাদের জানানো হয়, দেশ থেকে একটা মেডিক্যাল টিম আসছে। ওই টিমের কাছে আমাদের লালারসের নমুনা দিতে হবে। সেই নমুনা ভারতে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে তার ফল জানানো হবে। গোটা এই প্র’ক্রিয়ায় দিন সাতেক সময় লাগবে বলে জানানো হয়।

তাই বাধ্য হয়ে আমি রোম থেকে ফ্লোরেন্সে ফিরে এলাম। আমা'র মতো আরও অনেকে রোমেই অস্থায়ী ভাবে থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। কাউকে আবার ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হয়। অবশেষে ভারতের সেই চিকিৎসকদের দল ইটালিতে এলো। ১৩ ও ১৪ মা'র্চ আমাদের নমুনা সংগ্রহ করল। আমি নমুনা দিয়েছি ১৪ মা'র্চ। ফলে ইতালির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেককে রোমের ভারতীয় দূতাবাসে যেতে হল।

এর মধ্যে আবার ভারত সরকার এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান পাঠাল মিলানে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ওখানকার পড়ুয়াদের কোনও পরীক্ষা না করেই ভারতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার এমনও হয়েছে যে, ১৩ এবং ১৪ তারিখে অন্য সংস্থার বিমানে রোম থেকে যাত্রীদের উঠতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, আম'রা এখানে আ’ট'কে আছি। আমাদের নমুনা পরীক্ষার ফল জানার অ'পেক্ষায় রয়েছি।

আম'রা এখনও ইটালিতে আ’ট'কে আছি। সরকার যে যে নির্দে’শিকা দিয়েছে, সেগুলো সব মেনে চলছি। কিন্তু আমাদের ভারতে ফেরানোর বিষয়ে কোনও আপডেট নেই। এমনকি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতর, বিদেশ মন্ত্রনালয়, অসাম'রিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রনালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, এয়ার ইন্ডিয়া, ডিজিসিএ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যা’গ করে টুইট করেছি। কিন্তু কোনও সাড়া নেই। আম'রা ভারতীয়। দয়া করে আমাদের বাঁ'চান। দয়া করে সাহায্য করুন। আম'রা সবাই দেশে ফিরতে চাই। আম'রা ভারতে গিয়ে কোয়ারান্টিন থাকতেও প্রস্তুত। সূত্র : আনন্দবাজার

Back to top button