কঠিন শা'স্তি পেতে যাচ্ছেন সাংবাদিক পে'টানো সেই আরডিসি নাজিম

কুড়িগ্রামে গভীর রাতে ভ্রাম্যমান আ'দালত চালিয়ে এক সাংবাদিককে নি'র্যাতন ও কারাদ'ণ্ড প্রদানের অ'ভিযোগে জে'লা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আরডিসি) নাজিম উদ্দীন এবং আরো দুই কর্মক'র্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে জে'লা প্রশাসক হিসেবে রেজাউল করিম নামে একজন উপসচিবকে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

প্রত্যাহার হওয়া বাকি দুজন হলেন সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইস'লাম।

দায়িত্বশীল কর্মক'র্তারা বলছেন, প্রত্যাহার করা এই কর্মক'র্তাদের মধ্যে আরডিসি নাজিম উদ্দীনের বি'রুদ্ধে আরো ‘কঠিন ব্যবস্থা’ নেয়া হতে যাচ্ছে। এমন ব্যবস্থা যা ‘তার এবং তার চাকরি, পরিবার ও সামাজিক অবস্থার জন্য বেদনাদায়ক ও অ'পমানকর হবে’।

রবিবার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্রসফায়ারের হুমকি ও শারিরীক নি'র্যাতনের অ'ভিযোগ করবার সময় বারবার আরডিসি নাজিম উদ্দীনের নাম উল্লেখ করছিলেন সাংবাদিক আরিফুল ইস'লাম।

যদিও এ বক্তব্যের জন্য মি. উদ্দীনের টেলিফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি, কিন্তু একদিন পর দেখা গেল, কুড়িগ্রাম থেকে যেসব কর্মক'র্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে তাদের মধ্যে এই নাজিম উদ্দীনও রয়েছেন।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে মি. উদ্দীনকে দেখা গেছে এক বৃদ্ধকে শারিরীকভাবে নি'র্যাতন করতে।

বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে,এই কর্মক'র্তা এর আগেও আচরণগত কারণে একাধিকবার বদলির শিকার হয়েছেন।

বদলি কি শা'স্তি?

জনপ্রশা*সন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলছেন, হ্যাঁ।

“কোন কর্মক'র্তার বদলি বিষয়টি হচ্ছে তার শোধ'রানোর একটা সুযোগ। সাধারণত শা'স্তি হিসেবে এমন জায়গায় বদলি করা হয় যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না, কিংবা দু'র্নীতি করার সুযোগ নেই”।

এছাড়া চাকরিতে যোগ দেয়ার আগেই আচরণ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে বলেও জানান তিনি।

যেখানে সরকারি বিভিন্ন নিয়মকানুনের পাশাপাশি কার সাথে কিভাবে আচরণ করতে হবে, জনগণের সাথে কিভাবে আচরণ করতে হবে সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

“একজন ভাল কর্মক'র্তা যাতে ভদ্রলোকের মতো আচরণ করে সে বিষয়ে নানা ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়,” তিনি বলেন।

তবে তারপরেও সিভিল সার্ভিস যেহেতু একটি বড় সংগঠন তাই এখানে অনেক মানুষ আসে। সেখানে কিছু কিছু কর্মক'র্তা, কিছু কিছু লোক খা'রাপ থাকতেই পারে বলে মন্তব্য করেন মিস্টার হারুন।

তিনি বলেন,”সব লোক যে ভাল সেটি আম'রা মনে করি না”।

প্রশিক্ষণ ছাড়াও আচরণগত সংশোধনের জন্য বিভিন্ন ধরণের শা'স্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়।

“যদি কোন কর্মক'র্তার ব্যবহার যদি এমন হয় যেটি অকর্মক'র্তাসুলভ বা ভদ্রলোকের মতো আচরণ নয়, সেক্ষেত্রে তাদের বি'রুদ্ধে অসদাচরণের অ'ভিযোগে বিভাগীয় মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। আর আচরণ ফৌজদারি অ'প'রাধমূলক হলে তার বি'রুদ্ধে ফৌজদারি মা'মলা দায়ের করা যায়। একই সাথে বিভাগীয় মা'মলাও হতে পারে”।

তবে এর পরও আচরণে সংশোধন না আসলে এবং একই ধরণের আচরণ বার বার করলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয় বলে জানান তিনি।

নাজিম উদ্দীনের বি'রুদ্ধে এর আগে বেশ কয়েকবার অ'ভিযোগ এসেছে এবং এমন পরিস্থিতিতে কী' পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রশা*সন সচিব মিস্টার হারুন বলেন, কারো বি'রুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে আনুষ্ঠানিক অ'ভিযোগ করতে হয়।

“অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক অ'ভিযোগ না পাওয়ার কারণে অনেক ঘটনা নজর এড়িয়ে যায়। তাদেরকে যারা সুপারভাইজ করেন যেমন জে'লা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার যদি সময়মত অ'ভিযোগ না দেয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া যায় না”।

“তবে এখন তার বি'রুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটি খুবই কঠিন। তার এবং তার চাকরি, পরিবার ও সামাজিক অবস্থার জন্য বেদনাদায়ক ও অ'পমানকর হবে”, বলেন জনপ্রশা*সন মন্ত্রণালয়ের এই সচিব।

বদলি কি শা'স্তি হিসেবে যথেষ্ট?

সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আলি ই'মাম মজুম'দার বলেন, “বদলি একজন কর্মক'র্তার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কিছুটা হলেও প্রভাব বিস্তার করে। তবে এটি অবশ্যই হালকা অ'ভিযোগের প্রেক্ষাপটে হয়ে থাকে”।

কোন কর্মক'র্তার বি'রুদ্ধে গুরুতর অ'ভিযোগ উঠলে সেক্ষেত্রে তাকে “চাকরিচ্যুত করাই শ্রেয়” বলে মনে করেন তিনি।

তবে একই অ'ভিযোগ বারবার এলে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা উচিত। সেই সাথে তার বি'রুদ্ধে ত'দন্ত করে বিভাগীয় মা'মলা করা উচিত বলে জানান সাবেক এই সরকারি কর্মক'র্তা।

Back to top button