যেসব আমলে পাওয়া যাবে হ'জের সওয়াব

ধ'র্ম ডেস্ক : হ'জ মু'সলিম উম্মাহর ঐক্য-সংহতি ও সাম্যের সমুজ্জ্বল নিদর্শন। হ'জের সওয়াব স'ম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হ'জ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে সে নবজাতক শি'শুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর মকবুল হ'জের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি : ১, পৃষ্ঠা: ২০৬) মূলত যাদের হ'জে অথবা ওম'রায় যাওয়ার সাম'র্থ্য ও সক্ষমতা নেই তাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হ'জ-ওম'রার সওয়াব অর্জনের চ'মৎকার সুযোগ রয়েছে। প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে সেসব আমল বাতলে দিয়েছেন।

১. সকাল-সন্ধ্যার জিকির
আবুদ্দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, আম'রা একবার রাসুল (সা.)-কে বলি, হে আল্লাহর রাসুল! ধনী ব্যক্তিরা সওয়াবের ক্ষেত্রে আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা হ'জ করেন, আম'রা হ'জ করি না। তারা সংগ্রাম-যু'দ্ধে শরিক হন, আম'রা শরিক হতে পারি না। আরও আরও…। তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলবো যেটা তোম'রা করলে তোম'রা তারা যে আমল করে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাবে? আর সেটা হলো- প্রতি নামাজের পর তোম'রা ৩৪ বার আল্লাহু আকবার, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ ও ৩৩ আলহাম'দুল্লিাহ পড়ো।’ (মু'সনাদে আহম'দ, হাদিস নং: ১১১৫৪)

২. জামাতে নামাজ আদায়
আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ম'সজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করলো, সে যেন হ'জ করে আসলো। আর যে ব্যক্তি নফল নামাজ আদায় করতে ম'সজিদে গেলো, সে যেন ওম'রাহ করে আসলো।’ (তাবরানি, হাদিস নং: ৭৫৭৮)

৩. ইশরাকের নামাজ পড়া
ফজরের নামাজ আদায়ের পর ম'সজিদে সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করা। আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত ম'সজিদে বসে আল্লাহর জিকির করলো, এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করলো, সে ব্যক্তি হ'জ ও ওম'রাহর সওয়াব নিয়ে ফিরলো।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ৫৮৬)

৪. ফরজ নামাজ পড়ার জন্য ম'সজিদে যাওয়া
আবু উমামা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজের ঘর থেকে ওজু করে (ম'সজিদের দিকে) বের হয়, সেই ব্যক্তির সওয়াব ইহরাম বাঁ'ধা হাজির মতো হয়।’ (আহমাদ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২১২; আবু দাউদ, হাদিস নং: ৫৫৮; তারগিব, হাদিস নং: ৩২০)

৫. দ্বীন শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে ম'সজিদে যাওয়া
আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কথা শিখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে ম'সজিদে গেল, সে পরিপূর্ণরূপে হ'জ আদায়কারী ব্যক্তির মতো সওয়াব লাভ করবে।’ (তাবারানি, হাদিস নং: ৭৪৭৩)

৬. রমজানে ওম'রাহ পালন করা
সাহাবি হ'জরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানে ওম'রাহ আদায় করলে আমা'র সঙ্গে হ'জ্জ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৭৮২; মু'সলিম, হাদিস নং: ২২২)

৭. ম'সজিদে কুবায় নামাজ আদায়
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করলো, তারপর ম'সজিদে কুবায় এসে কোনো নামাজ আদায় করল, সে ওম'রাহর সওয়াব হাসিল করল। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১৪১২)

৮. জুমা'র নামাজ
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে উত্তম'রূপে অজু করে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে ইহরাম বেঁধে হ'জে গমনকারীর মতো সওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি শুধু সালাতুদ্দুহা (পূর্বাহ্নের নামাজ) আদায়ের উদ্দেশ্যে ক'ষ্ট করে বের হয়, সে ওম'রাহ আদায়কারীর মতো সওয়াব লাভ করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং:৫৫৮)

৯. পিতা-মাতার সেবা ও তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি রাসুল (সা.) এর নিকট এসে বললো, আমি জিহাদে-সংগ্রামে অংশ নিতে চাই, কিন্তু আমা'র সেই সাম'র্থ্য ও সক্ষমতা নেই। তখন রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমা'র মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন?’ লোকটি বলল, আমা'র মা জীবিত। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর নিকট যু'দ্ধ-সংগ্রামে যেতে না পারার অ'পারগতা পেশ কর। এভাবে যদি করতে পার এবং তোমা'র মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হ'জ, ওম'রাহ এবং যু'দ্ধ-সংগ্রামের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভ'য় করো এবং মায়ের সেবা করো।’ (মাজমাউজ জাওয়াইদ, হাদিস নং: ১৩৩৯৯)

১০. ঈদের নামাজ
বিভিন্ন বর্ণনায় সাহাবায়ে কিরাম বলেছেন, ‘ঈদুল ফিতরের নামাজ ওম'রার সমতুল্য এবং ঈদুল আজহার নামাজ হ'জের সমতুল্য।’

১১. মু'সলমানের প্রয়োজন মেটানো
হাসান আল-বসরি (রহ.) বলেন, ‘তোমা'র ভাইয়ের প্রয়োজন মেটানো তোমা'র বারবার হ'জ করার থেকে উত্তম।’

Back to top button