স্ত্রী'র লা'শ নিয়ে সারা রাত চায়ের দোকানে

কহিনুর বেগম তিন–চার দিন ধরে ডায়রিয়ায় আ'ক্রান্ত ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অচেতন অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো মির্জাগঞ্জ উপজে'লা হাসপাতা'লে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিক তাঁর মৃ'ত্যু হয়। বাইরে তখন বৃষ্টি। লা'শ নিয়ে রাখার জায়গা না থাকায় স্বামী জলিল আকন সকালে লা'শটি নিতে চাইলেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জো'র করে একটি অটোতে তুলে পাঠিয়ে দেয় লা'শ। কোনো উপায় না দেখে জলিল তাঁর ছোট্ট চায়ের দোকানেই স্ত্রী'র লা'শ নিয়ে আসেন। পাশে বসে থাকেন সারা রাত।

জলিল আকনের বসতঘরটি গত ১৪ মে আ'গুনে পুড়ে যায়। এরপর তিনি স্ত্রী' ও এক সন্তানকে নিয়ে অন্য একজনের বাড়ির বৈঠকখানায় থাকছিলেন। করো'না–আতঙ্কে সেখানে লা'শ নেওয়ার বিষয়ে অন্যদের আ'পত্তি থাকায় তিনি তাঁর চায়ের দোকানে স্ত্রী'কে নিয়ে আসেন।

সকালেও কেউ এগিয়ে না আসায় জলিল নিজেই স্ত্রী'র লা'শ গোসল করান। পরে স্থানীয় মো. মিজানুর রহমান এবং সুবিদখালী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মাহবুব আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে ওই লা'শ দাফনের ব্যবস্থা করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজে'লার ঝাটিবুনিয়া গ্রামে।

জলিল আকন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমা'র স্ত্রী' কহিনুর বেগমের (৩৫) কয়েক দিন যাবৎ পাতলা পায়খানা হয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার সকালে উপজে'লা হাসপাতা'লে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে মা'রা যায়। আমা'র বাড়িতে ঘর নেই। গত মাসে আ'গুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। অন্যের বাড়িতে থাকি। স্ত্রী'র লা'শ সকালে আনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শরিফুল ইস'লাম রাতেই একটি অটোতে করে লা'শ পাঠিয়ে দিয়েছে।’

এ ব্যাপারে দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. শরিফুল ইস'লামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আসলে আম'রা সব মৃ'ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই দাফন-কাফনের জন্য দ্রুত প্রস্তুতি নিতে বলি। জো'র করে তাঁকে (জলিল আকন) লা'শ দেওয়া হয়নি। বুঝিয়ে শুনিয়ে তাঁর সঙ্গে লা'শ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতা'লের এক কর্মী বলেন, হাসপাতা'লে লা'শ থাকলেই ঝামেলা, মানুষ কোভিড-১৯ স'ন্দেহ করে। কোভিড-১৯ না হলেও পু'লিশকে অবহিত করা, নমুনা সংগ্রহ করা ইত্যাদি নানা বিষয় ঝামেলা পোহাতে হয়। এ কারণেই হাসপাতাল থেকে লা'শ তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

উপজে'লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক'র্তা দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিষয়টি অ'ত্যন্ত দুঃখজনক। দু'র্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মধ্যে রাতে লা'শ বাড়িতে পাঠানো উচিত হয়নি। শুনেছি, ওই নারীর বাড়ি কয়েক দিন আগে আ'গুনে পুড়ে গেছে। আমি যখন বিষয়টি জেনেছি, তখন লা'শ তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে গেছে। ওই নারী ইউরিনারি ইনফেকশনজনিত রোগে ভুগছিলেন।’

এ ব্যাপারে উপজে'লা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মো. আবু বকর ছিদ্দিকী' বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণে আমি বিস্মিত হয়েছি। আমি স্বাস্থ্য কর্মক'র্তাকে রাত ১১টায় ফোন করে বলেছিলাম লা'শ পরের দিন হস্তান্তর করতে। কিন্তু তাঁরা রাতেই লা'শ পাঠিয়ে দিয়েছেন, এটা অ'ত্যন্ত দুঃখজনক।’

Back to top button