করো'নায় ক্ষতি হতে পারে কিডনির, ৫ উপসর্গে সাবধান

লকডাউন, গ্রীষ্ণ বা বর্ষা কোনো কিছুই কোভিড-১৯-কে জ'ব্দ করতে পারেনি। এখন সুস্থ হওয়ার হার বাড়লেও ক্রনিক অ'সুখের রোগীদের শ'ঙ্কা কমেনি একটুও। আমাদের দেশে ডায়াবিটিস ও হাই ব্লাড প্রেশারের কারণে ক্রনিক কিডনির অ'সুখের রোগীর সংখ্যা অনেক। এদের সঙ্গে যারা কিডনির অ'সুখে ভুগছেন, তাদেরও বিশেষ সাবধানতা নেয়া উচিত। কিডনির কাজ কমে গেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে। তাই করো'নার বি'রুদ্ধে যথযথ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁ'কি বেড়ে যায়।

নেফ্রোলজিস্ট জয়ন্ত দত্তের মতে, “যাদের কিডনির কাজ একেবারেই কমে যায়, যাদের নিয়মিত ডায়ালিসিস করতে হয় তাদের বাড়তি সতর্কতা নেয়ার পাশাপাশি ডায়ালিসিসও চালিয়ে যেতে হবে। করো'নার ভ'য়ে ডায়ালিসিস বন্ধ রাখলে সমস্যা বাড়বে।”

কিডনি আমাদের শরীরের র'ক্ত নানা দূষিত পদার্থ র'ক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বার করে দেয়। র'ক্ত পরিশোধন করার পাশাপাশি শরীরের পিএইচ ও পানির ভা'রসাম্য রক্ষা করা কিডনির অন্যতম কাজ। তাই কোনও ভাবে কিডনির কাজ ব্যহত হলে শরীরে নানান বিষাক্ত পদার্থ জমে অ'সুস্থতা বাড়ে। তাই কিডনির ক্রনিক অ'সুখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে ওষুধ ও সঠিক ডায়েট মেনে চলার পাশাপাশি হ্যান্ড হাইজিন ও মাস্ক ব্যবহার করা একান্ত আবশ্যক।

ক্রনিক কিডনি ডিজিজের অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত র'ক্তচাপ আর ডায়বিটিস। তাই যাদের এই সব সমস্যা আছে, তাদের নিয়ম করে কিডনি চেক আপ করা উচিত। যেহেতু কিডনির অ'সুখের প্রাথমিক অবস্থায় সে রকম কোনো উল্লেখযোগ্য উপসর্গ থাকে না, তাই রোগ ধ'রা পড়তে দেরি হয়। তাই যাদের এই দুটি সমস্যা আছে তাদের বছরে এক বার রুটিন ইউরিন টেস্ট, ইউরিয়া ক্রিয়েটিনিন ও অ্যালবুমিন পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত। করো'নার সময়ে র'ক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকে যেতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং বাড়ি ফেরার পর পোশাক বদলে সব কিছু স্যানিটাইজ করতে হবে।

কিডনির যত্নে কোনো ত্রুটি নয়।

কোন কোন উপসর্গে সাবধান হবেন

ক্রনিক কিডনির অ'সুখ আছে কি না তা বোঝা বেশ মুশকিল। এই সমস্যার সে রকম কোনো উপসর্গ থাকে না। বারে বারে প্রস্রাবের সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরাম'র্শ নিয়ে অবশ্যই ইউরিন পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত। এ ছাড়াও এই সব উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাবেন।

• খিদে কমে যায়। বমি বমি ভাব থাকে। কখনো কখনো বমি হয়।

• অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, হাঁপিয়ে ওঠে, নিঃশ্বা'সের ক'ষ্ট হয়।

• ব্লাড প্রেশার ওঠানামা করতে পারে।

• একাধিক বার প্রস্রাবের সংক্রমণ হতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালা ও ব্যথাও হতে পারে।

• সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ, মুখ, পা ফোলা লাগে।

এই ধরণের সমস্যা হলে ইউরিন টেস্ট-সহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা করিয়ে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা দরকার। কিডনির অ'সুখের পাঁচটি স্টেজ আছে। প্রথম চারটি স্টেজে ওষুধ ও লাইফস্টাইল মডিফিকেশন করেই ভাল থাকা যায়। কিন্তু স্টেজ ৫-এ ডায়ালিসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন করা ছাড়া উপায় থাকে না।

কী' করবেন, কী' করবেন না

ক্রনিক কিডনির অ'সুখে ডায়েটিশিয়ানের পরাম'র্শ নিয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খেতে হবে। বেশি নুন বা জলীয় খাবার খেলেও কিডনির ধকল বাড়ে। পা ও মুখে পানি জমে ফুলে যায়। তাই কম নুন দিয়ে রান্না করা বাড়ির খাবার খেতে হবে। চানাচুর, চিপস, আচার ইত্যাদিতে প্রচুর নুন থাকে, এগু'লি বাদ দেবেন। এ ছাড়া প্রানীজ প্রোটিন দুর্বল কিডনির উপর বাড়তি চাপ ফেলে। তাই মাছ, ডিম, চিকেন খেতে হবে বিশেষজ্ঞের পরাম'র্শ মেনে নির্দিষ্ট পরিমাপে।

করো'না আ'ক্রান্তের কিডনি খা'রাপ হওয়ার শ'ঙ্কা বেশি

নোভেল করো'নাভাই'রাসের চরিত্র স'ম্পর্কে এখনো অনেক কিছুই আমাদের অজানা। তবে দেখা গেছে যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ ফুসফুসকে আক্রমণ করে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে করো'না থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেও কিডনির কোষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিডনির র'ক্তবাহী ধমনীতে র'ক্তের ডেলা আ'ট'কে যাওয়ায় শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কমে যায়। ফলে কিডনির কোষ এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিন, নিউ ইয়র্ক, ইতালি ও ফ্রান্সে কোভিড-১৯ আ'ক্রান্তদের মধ্যে যারা হাসপাতা'লে ভর্তি হয়েছেন. তাদের ৩০ শতাংশেরই কিডনি খা'রাপ হয়েছে। তাই কোভিড আ'ক্রান্তদের বেলায় অ'সুখ সারার পর কিডনি বিশেষজ্ঞের পরমা'র্শ মেনে চলা উচিত।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Back to top button