ক্রিকে'টের কসম করে সাব্বির বললেন, ‘গায়ে হাত তুলিনি’

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে পে'টানোর অ'ভিযোগ উঠেছে জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাব্বির রহমান রুম্মনের বি'রুদ্ধে। তবে ওই কর্মীর গায়ে হাত তোলার কথা অস্বীকার করেছেন সাব্বির।

রোববার (৩১ মে) ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট বিডিক্রিকটাইমকে সাব্বির বলেন, একটা কথা রটেছে যে আমি কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে মে'রেছি। না। এরকম কিছুই না। একটা মানুষকে মা'রা এত সহ'জ না।

ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাব্বির বলেন, আমা'র বাড়ির সামনে একটা গাড়ি ছিল। আমি আমা'র ওয়াইফকে নিয়ে বাড়ি থেকে আসছিলাম। আমি জাস্ট উনাকে বলেছি যে, দেখেন ভাই, এই যে রাস্তার মাঝখানে গাড়িটা রেখেছেন। কেউ তো বের হতে পারছে না কেউ আসতেও পারছে না। কোন প্রেগনেন্ট মহিলা কিংবা হার্টের রোগীর যদি হাসপাতা'লে যেতে হয়…, আপনি গাড়ি রেখে আরেকদিকে গল্প করছেন, মানুষ কী'ভাবে যা? দুই মিনিটে মানুষ মা'রাও যেতে পারে। আপনি সেটা না করে এক সাইডে রাখবেন গাড়িটা, যাতে অন্তত মানুষ আসা যাওয়া করতে পারে। এটুকুই কথা বলেছি।

তার কথায়, আমি হর্ন দেয়ার পর তিনি যেভাবে রিঅ্যাক্ট করেছে, মাই গড। মনে হচ্ছে, আমি খুব বড় ভুল কাজ করে ফেলেছি। চোখ রাঙাচ্ছে, বিড়বিড় করে কি যেনো বলতে বলতে যাচ্ছে। আমা'র কাছে একটু অকওয়ার্ড লেগেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে, ভাই কিছু বলছেন নাকি? আপনি এভাবে কথা বলছেন কেনো? সে বলেছে, আমি আমা'র মতো কাজ করছি। আপনি হর্ন মা'রার কে? এটুকুই তর্কাতর্কি হয়েছে, আর কিছুই হয় নাই।

জাতীয় দলের এ ক্রিকেটার বলেন, একটা মানুষকে মা'রার কথা বললেই যে মা'রা তা তো না। রাস্তার মাঝখানে তো একটা মানুষকে মা'রা যায় না। মানুষকে মা'রা যায়? বলেন। আর আমি কেনো মানুষকে মা'রবো। যে কর্মীকে আমি ডেকে ডেকে ত্রাণ দেই, যাকাতের টাকা দেই সেই লোকটাকে তো আমি মা'রতে পারবো না।

সবসময় তাকেই কেনো সংবাদের শিরোনাম করা হয়? এমন প্রশ্ন সামনে এসে সাব্বির রহমান বলেন, এখন কেউ যদি আপনার সঙ্গে ওভাবে তর্ক করে তাহলে আপনারও তো রাগ হবে। আমিও তো মানুষ। সবসময় যে আমিই হেডলাইনের উপরে উঠবো সেটা তো উচিৎ না। তিলকে তাল করে, সাব্বির খা'রাপ- এটা তো ঠিক না। এক হাতে তো তালি বাজে না।

সাব্বির অ'ভিযোগ করেন, সেই লোক যে আধাঘণ্টা পরে একশ জন লোক নিয়ে এসে আমা'র বাবা-মাকে হু'মকি দেয়, আমাকে মা'রার হু'মকি দেয়। আমি দেশের জন্য খেলেছি, দেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছি। এটাই যদি আমা'র প্রাপ্য হয়ে থাকে তাহলে তো দেশের জন্য খেলে লাভ নাই।

ক্রিকে'টের কসম করে সাব্বির বলেন, ক্রিকেট তো আমা'র জান, আমা'র লাভ। ওই লোকটার গায়ে হাতই দেইনি আমি। গায়ে হাত দেয়ার তো প্রয়োজন নাই। আমা'র সাথে আমা'র ওয়াইফ ছিল, নিচে গার্ড ছিলো, আমা'র ড্রাইভা'র ছিলো। তারা তো মিথ্যা বলবে না। আমি নামাজ কালাম পড়ি, আল্লাহর ঘর ছুঁয়েছি, ওম'রাহ করেছি; আমি তো মিথ্যা কথা বলবো না।

‘সে গরীব মানুষ। তাকে কেনো মা'রবো। তার সঙ্গে হয়তো একটু উচ্চস্বরে কথা হয়েছে। সেটাও আমা'র করা উচিৎ হয় না। আসলে পরিস্থিতিটা কেমন ছিলো সেটা না দেখলে বুঝানো যাবে না। আমা'র হয়তো ওইভাবে কথা বলা উচিৎ হয়নি। কিন্তু সত্যি কথা বলতে, আমি তাকে মা'রিনি।’

রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর বেলদারপাড়া এলাকায় ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সঙ্গে অ'প্রিতীকর ঘটনায় জড়ান সাব্বির।

পু'লিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ক্রিকেটার সাব্বির রহমান প্রাইভেট'কারে চড়ে তার বাড়ির কাছে পৌঁছেন। এসময় বাড়ির রাস্তায় সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের ময়লা বহনকারী ভ্যান দেখে তিনি ভ্যানটি সরাতে বলেন। তবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাদশা প্রতিউত্তরে বলেন, ‘আমাদের কাজই তো ময়লা সরানো। ময়লা নিয়েই চলে যাবো।’ কিন্তু সাব্বির পাল্টা ওই পরিচ্ছন্ন কর্মচারীকে বলেন, এটা কি তোর বাপের রাস্তা।’ এ নিয়ে কথাকা'টাকাটির জের ধরে বাদশার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন সাব্বির। পরে অন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা খবর পেয়ে ছুটে এলে উত্তে'জনার সৃষ্টি হয়। এরপর পু'লিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বোয়ালিয়া থা'নার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, সন্ধ্যায় বিষয়টি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযামুল আযিম মীমাংসা করে দেন।’

এদিকে স্থানীয়রা দাবি করেন, রাসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাদশার গায়ে হাতও তুলেছেন সাব্বির। এ নিয়েই উত্তে'জনা ছড়িয়ে পড়ে অন্য কর্মচারীদের মাঝে। তারা খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ মহানগরীর বেলদারপাড়া এলাকায় গিয়ে সাব্বিরের বাড়ির কাছে হাজির হন। শেষে পু'লিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রসঙ্গত, এর আগে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে এক দর্শককে পে'টানোর অ'ভিযোগে ছয় মাসের জন্য জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন ক্রিকেটার সাব্বির রহমান। পাশাপাশি ২০ লাখ টাকা জ'রিমানা করা হয় তার।

Back to top button