এই ৭টি স্প’ষ্ট লক্ষণ দে’খে আপনার শরীরের র’ক্তস্বল্পতা নিয়ে সত’র্ক হওয়া জ’রুরি!

র'ক্তস্বল্পতা এমন এক শারীরিক অবস্থা যা শরীর পর্যাপ্ত র'ক্তের লোহিত কণিকা না পেলে হয়ে থাকে, অন্য ভাবে বললে, র'ক্তে হিমোগ্লোবিন অভাবে অথবা এই কণিকাগুলোর যে কাজ তা সঠিক ভাবে করতে না পারলে র'ক্তস্বল্পতা হয়। লোহিত র'ক্ত কণিকার কাজ হলো সারা শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে আনা। এই প্রক্রিয়া যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে, আমাদের দেহে কার্বন ডাই অক্সাইড জমে বিষাক্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন কারণে র'ক্তস্বল্পতা হতে পারে এবং এর চিকিৎসা সম্ভব।

আম'রা র'ক্তস্বল্পতার কিছু লক্ষণ এবং তা সারিয়ে তোলার উপায়ের তালিকা করেছি। আসুন দেখে নেই তালিকাটি।

র'ক্তস্বল্পতার লক্ষণ

আপনি নানা কারণে র'ক্তস্বল্পতায় আ'ক্রান্ত হতে পারেন। তবে এ থেকে পরিত্রাণের উপায়ও রয়েছে। কিন্তু যে কারণেই র'ক্তস্বল্পতা হোক না কেন, লক্ষণগুলো সব ক্ষেত্রেই একই রকম। আসুন দেখি কি কি লক্ষণ প্রকাশ পায় র'ক্তস্বল্পতা হলে।

১. ত্বক মলিন এবং চোখের নিচের মাংস ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া

যখন আমাদের শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না বা র'ক্তে লোহিত র'ক্ত কণিকার পরিমাণ কমে যায়, আমাদের ত্বকের রঙ পরিবর্তন হয়ে মলিন হয়ে যায়। এই পরিবর্তন শুধু ত্বকে নয়, বরং সারা শরীরেই দেখা দেয়, বিশেষ করে হাত, চোখের নিচের মাংস এবং জিহ্বায়।

২. অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন

র'ক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিক ভাবে দেহে র'ক্ত পাম্প করতে পারে না। আমাদের দেহে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখার জন্য তখন তাকে অ'তিরিক্ত কাজ করতে হয়, যার ফলে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি হয়।

৩. দুর্বলতা

যদি আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন না পায়, তাহলে শরীরের পক্ষে নিয়মিত কাজগুলো যথাযথ ভাবে করা সম্ভব হয় না, ফলে আম'রা দুর্বল এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ি।

৪. মনোযোগের অভাব

আমাদের সব অঙ্গের সঠিক কাজের জন্য যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন, মস্তিষ্কের বেলায়ও তার ব্যতিক্রম নয়। মস্তিষ্ক যদি প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পায় তাহলে লক্ষ্য ঠিক রাখা এবং মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।

৫. নখ পাতলা হওয়া

নখের সুস্থতার জন্যও অক্সিজেন প্রয়োজন। যদি নখ পাতলা অথবা চামচের আকৃতি দেখা দেয়, তাহলে তা র'ক্তস্বল্পতার লক্ষণ।

৬. ঠোট শুকিয়ে যাওয়া

বাতাস, শুষ্ক আবাহাওয়া, অথবা ঠাণ্ডায় ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও র'ক্তস্বল্পতায়ও একই ভাবে ঠোঁট শুকিয়ে যেতে দেখা যায়।

৭. আজে বাজে জিনিস খাওয়া

বিজ্ঞানীরা এখনো আবিষ্কার করতে পারেননি, র'ক্তস্বল্পতা হলে কেন মানুষ ময়লা, মাটি, চক ইত্যাদির মতো বিভিন্ন আজে বাজে জিনিস খাওয়া শুরু করে।

যা খেলে র'ক্তস্বল্পতা দূর হবে

সম্প্রতি এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক উপায়ে র'ক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ানোর উপায় বর্ণনা করা হয়েছে। দেখে নিন কী' খেলে হিমোগ্লোবিন বাড়বে।

১. লৌহযু'ক্ত খাবার

শরীরে লৌহের ঘাটতি হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে লোহা গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। লৌহসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে মুরগির কলিজা, ঝিনুক, ডিম, আপেল, বেদানা, ডালিম, তরমুজ, কুমড়ার বিচি, খেজুর, জলপাই, কিশমিশ ইত্যাদি।

২. ভিটামিন সি

ভিটামিন সি-এর অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে। তা ছাড়া ভিটামিন সি ছাড়া লোহা পুরোপুরিভাবে শোষণ হয় না। পেঁপে, কমলা, লেবু, স্ট্রবেরি, গোলম'রিচ, সবুজ ফুলকপি (ব্রকোলি), আঙুর, টমেটো ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে।

৩. ফলিক অ্যাসিড

ফলিক অ্যাসিড একপ্রকার ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এটি লাল র'ক্তকণিকা তৈরিতে প্রয়োজনীয় উপাদান। সবুজ পাতাযু'ক্ত সবজি, কলিজা, ভাত, শিমের বিচি, বাদাম, কলা, সবুজ ফুলকপিতে অনেক ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।

৪. বিট

হিমোগ্লোবিন বাড়াতে বিটের রস খাওয়ার পরাম'র্শ দেন ডাক্তাররা। এতে রয়েছে প্রচুর আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার ও পটাশিয়াম। এর পুষ্টিমান শরীরের লাল র'ক্তকণিকা বাড়ায়।

৫. আপেল

দিনে একটি করে আপেল খেয়ে র'ক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে পারেন। আয়রনের উৎস আপেলে আরও নানা প্রকার পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রতিদিন খোসা'সহ একটি আপেল খান। অথবা সমানুপাতে আপেল ও বিটের রস মেশাতে পারেন।

৬. ডালিম

আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা ও আঁশ (ফাইবার) সমৃদ্ধ ডালিম র'ক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে দেহে র'ক্ত চলাচল সচল রাখে। প্রতিদিন মাঝারি আকৃতির একটি ডালিম খাওয়ার চেষ্টা করুন। অথবা এক গ্লাস ডালিমের জুস খান। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

Back to top button